ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং জ্ঞান বিতরণের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে হবে। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল লাইব্রেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। শনিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিডার সারভিস চালু করবার জন্য ডিজিটাল লাইব্রেরী এক্সেস সেন্টারের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্ব বিদ্যালয়ের উন্নয়নকে গাল ভরা বুলি হিসাবে দেখতে চাই না, আমি দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে চাই। এই প্রান্তিক জনপদের বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন নতুন উদ্ভাবন ও জ্ঞানের সৃষ্টি করবে, আর এই অভিযাত্রা চলমান থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে কি দিলো সেটা বড় বিষয় নয় বরং আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে কি দিলাম সেটাই বিবেচ্য বিষয়। তিনি ডিজিটাল লাইব্রেরির সর্বোচ্চ বিকাশ ও পরিস্ফুটনের লক্ষ্যে কাজ করে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিকীকরণের পথে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজেশন একটি মাইলফলক হিসাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, বিশ্বমানের যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে সেমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত উন্নয়নমুলক যতকিছুর উদ্বোধন হয়েছে তার মধ্যে আজকের ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধন শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য লাইব্রেরি অটোমেশনের গুরুত্ব অপরসীম। সে ব্যাপারে আমরা শুরু থেকে কাজ করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর লাইব্রেরিয়ান মোঃ আক্কাস আলী পাঠান, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অটোমেশন কমিটির আহবায়ক সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, আইসিটি সেল এর পরিচালক প্রফেসর ড. আহসানুল হক আম্বিয়া, এশিয়ান প্যাসিফিক কমিউনিকেশন এর পরিচালক শাহমা সুমন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার(ভারঃ) ড. নওয়াব আলী খান, অটোমেশন কমিটির সদস্য মোঃ জসীম উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান মুহঃ আতাউর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
বর্তমানে ইবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে থাকা মোট ১ লাখ ৮ হাজার বইয়ের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার বইয়ের তথ্য অনলাইনে সার্চ দিয়ে শিক্ষার্থীরা তথ্য পেতে পারবে। এছাড়া কোনও একটি বইয়ের নাম, লেখক, প্রকাশনী, যে বিষয় সম্পর্কিত বই সে বিষয় এবং প্রতিটি বইয়ের জন্য থাকা নির্দিষ্ট বার কোড দিয়ে সার্চ করলে বইটি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট বিভাগ বা শিরোনামের বইয়ের ক্ষেত্রে সে বিভাগ বা শিরোনাম লিখে অনুসন্ধান করলে সে বিষয়ে থাকা সব বইয়ের তালিকা ও তথ্য পাওয়া পাওয়া যাবে। একইভাবে কোনো লেখক বা প্রকাশনীর নাম লিখে সার্চ করলে গ্রন্থাগারে থাকা সেই লেখক বা প্রকাশনীর সকল বইয়ের তথ্য জানা যাবে। প্রসঙ্গত, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) নির্দেশনায় এবং ইবির আইসিটি সেলের কারিগরি সহযোগিতায় ৭ মাস ধরে এই অনলাইনে তথ্য লিপিবদ্ধের কাজ চলে আসছে। এ অনলাইন সুবিধা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদেরকে আর সেল্ফ থেকে কষ্ট করে বই খুঁজতে হবে না। এখন থেকে বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত হতে জানা যাবে বইটি গ্রন্থাগারের কত তলায় কোন সেলফে পাওয়া যাবে। এছাড়াও জানা যাবে গ্রন্থাগারের বই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ
























