বাংলাদেশে ইসলামি উগ্রবাদ কিভাবে রপ্তানি করছে যুক্তরাজ্য তা নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী বৃটিশ সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য ইকোনোমিস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চলতি সংখ্যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে সংঘঠিত ইসলামী উগ্রবাদী তৎপরতা ও জঙ্গি হামলায় ব্রিটিশ নাগরিকদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাস ও ইসলামি জঙ্গিবাদ ছড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্রিটেন সরকার একতরফা অভিযোগ করে আসছিল। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মত দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের কাছে পাল্টা অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, ব্রিটেন সন্ত্রাস ও ইসলামি উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। সেই থেকে এ বিষেয়ে পাল্টাতে থাকে দু’দেশের মধ্যেকার দৃশ্যপট। ব্রিটেনের সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্যা ইকোনমিস্ট বর্তমান সংখ্যার প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে ইসলামি উগ্রবাদ রপ্তানি করছে ব্রিটেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মুসলমান অভিবাসীদের প্রথম স্রোত ব্রিটেনে আছড়ে পড়ে সত্তরের দশকে। যুক্তরাজ্যে বিদেশী বংশোদ্ভূত ইসলাম প্রচারকরা তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ১৯৯০ দশকে রক্ষণশীল  ইসলাম প্রচারক হিসেবে পরিচিত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলায়ার হোসেন সাঈদীর প্রচারণার ফলে ব্রিটেনে বাংলাদেশী মুসলমানদের রেস্তোঁরাগুলো এলকোহল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশেী উগ্রবাদীদের আরও গুরুতর উদ্বেগজনক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন- গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক ইস্ট লন্ডন স্কুলের ছাত্রী শামীমা বেগম সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস-এ যোগ দেয় এবং তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ হিজবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ গোলাম মওলা লন্ডনে পড়ালেখার সময় ইসলামি উগ্রবাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়।

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে সংঘঠিত বিভিন্ন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পর্যালোচনা করে দ্যা ইকোনমিস্ট তাদের প্রতিবেদনে জানায়, দু’জন বাংলাদেশি ব্লগারের হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত তৌহিদুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক। ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএসএ’র সদস্য সংগ্রাহক সন্দেহে ঢাকার একটি স্কুল থেকে আটক রিজওয়ান হারুন ব্রিটেনে বসবাস করতেন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইএস-এর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থসংগ্রাহক হিসেবে ২০১৫ সালে সিরিয়ায় নিহত সাইফুল হক সুজনও ছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক। এছাড়াও প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে আইএসএ যুক্ত হওয়া ৮০০ জনের মধ্যে ১০০ জনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক।

https://www.economist.com/britain/2019/09/19/how-britain-exports-islamist-extremism-to-bangladesh

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা গ্রিন ক্রিসেন্ট দ্বারা পরিচালিত ঢাকার একটি মাদ্রাসা থেকে ২০০৯ সালে অস্ত্র এবং জিহাদি বই উদ্ধার করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের তথ্যমতে, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল মুস্তফার সাথে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদির সম্পৃক্ততা ছিল। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে বিনা অপরাধে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের কারণে দু’দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ইসলামী উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে কখনো এক হয়ে কাজ করতে পারে না।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে