চার লেন মহাসড়কে যেকোনো যান চলাচলে টোল দিতে হবে কিলোমিটার হিসেবে। আদায় করবে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর। তবে সওজর সেতুগুলো থাকবে এর আওতামুক্ত। তবে কবে থেকে আদায় শুরু হবে ঠিক হয়নি এখনও, এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে সড়ক বিভাগ। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুফল পেতে সব মহাসড়কে শুরুর আগে, পাইলট আকারে একটি সড়ককে আনা যেতে পারে টোলের আওতায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ফরিদপুর ও জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেনের মহাসড়কে গাড়ি চালাতে দিতে হবে টোল; সম্প্রতি এ নিদের্শনা প্রধানমন্ত্রীর। এর পর পরই টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। কোন মহাসড়কে কত টোল, আদায় পদ্ধতি কেমন হবে এ নিয়ে কমিটি করার কথাও ভাবছে তারা। এখনও মহাসড়কে শুরু ও শেষপ্রান্তে টোল প্লাজা নির্মাণ হয়নি তাই, আদায় শুরু কবে থেকে বলতে পারছে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে তারা জানাচ্ছে, টোল না দিয়ে ব্যবহার করা যাবে সার্ভিস লেন। টোল মুক্ত থাকছে সওজ-র সেতুগুলোও।
ঢাকা বিভাগের সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান বলেন, এই টোল থার্ড মাধ্যমে আদায় করা হবে। পার কিলোমিটার ট্রাভেল ওয়াইজ টোল আদায় করা হবে। এখানে আলাদা যদি কোন সেতু থাকে তবে তা থাকবে টোলের আওতামুক্ত। এ ছাড়া স্থানীয় যেসব যানবাহন আছে যারা এক কিলোমিটার কিংবা দেড় কিলোমিটার চলবে তাদের টোল দিতে হবে না।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কের মান ঠিক রেখে আলাদা সার্ভিস লেন করার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গাড়ির দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করতে পারলে টোল দিতে আপত্তি নেই তাদের।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, যে রাস্তা গুলো পূর্বে হয়েছিলো তাতে সার্ভিস লেন ছিলো না, তবে বর্তমান নতুন রাস্তায় সার্ভিস লেন হচ্ছে, সেতুমন্ত্রী বলছেন ঢাকা চট্টগ্রাম সড়কে সার্ভিস লেন হবে। আমি মনে করি সার্ভিস লেন করে যদি চলাচল করে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয় তাহলে উন্নত দেশের মতো টোল দিতে আপত্তি নেই। তবে পাইলট হিসেবে প্রথমে যে কোনো একটি সড়ককে টোলের আওতায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। টোল আদায়ের আগে মহাসড়কে ধীর ও দ্রুতগতির গাড়ির জন্য আলাদা লেন করার পাশাপাশি রাস্তার প্রস্ততা বাড়ানোর কথা ও বলেছন তারা।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাদিউজ্জামান বলেন, ইউজারের কাছ থেকে যদি টোল আদায় করতে হবে অবশ্যাই রোড উন্নত করতে হবে পাশাপাশি এর পরিধি ও বাড়াতে হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০০৮ সাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের টোল রোড, ২০০৫ সাল থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রুস্তমপুর অংশ এবং নলকা-হাটিকুমরুল-বনপাড়ার ৫০ কিলোমিটার সড়কে টোল আদায় হচ্ছে ২০০৩ সাল থেকে।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























