মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের শ্রমবাজার নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস-বায়রা। সভার শুরুতেই ঘটে বিপত্তি। মতবিনিময় শুরু হলেই সভাকক্ষে প্রবেশ করেন বায়রার সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, সহ-সভাপতি মনসুর আহমদ কালাম, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকের সাজ্জাদ হোসেনসহ নির্বাহী কমিটির ১৩ জন সদস্য। যদিও এই ১৩ জনকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। তাদের জন্য চেয়ারও ছিলো না। পরে চেয়ার এনে বসার ব্যবস্থা করা হয়।

শুরুতে লিখিত বক্তব্যে সভাপতি বেনজীর আহমদ বলেন, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের শ্রমবাজার নিয়ে সম্প্রতি কিছু  গণমাধ্যমের খবরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সাথে বায়রাও সিন্ডকেটমুক্ত শ্রমবাজারের পক্ষে বলে জানান তিনি। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে চাইলে সভাপতির আপত্তির মুখে পড়েন সহ-সভাপতি মনসুর আহমদ কালাম। সভাপতি বলেন,  প্রশ্নের জবাব শুধু তিনিই দেবেন। আরেক এক প্রশ্নে মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী জবাব দিতে গেলে অন্য পক্ষের তোপের মুখে পড়েন। তারা বলেন, “সভাপতি ছাড়া কেউ কথা বলতে না পারলে, মহাসচিবও বলতে পারবে না। কারণ, সাধারণ সদস্য ও নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্য  মহাসচিববের প্রতি একাধিকবার অনাস্থা দিয়েছে। তিনি এখানে কথা বলতে পারবেন না।“

সভাপতি বেনজীর আহমদ বলেন, “আমি তাকে (মহাসচিব) অনুমতি দিয়েছি কথা বলার জন্য।“এনিয়ে দুই পক্ষের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বেনজীর আহমদ বলেন, মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে আবারো সিন্ডিকেট হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে না। নানা মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, সিন্ডিকেট এরইমধ্যে হয়ে গেছে। তবে এবার বায়রা সিন্ডিকেটের পক্ষে না।

আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের শেষে বক্তব্য রাখেন অপর পক্ষ। সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ বলেন, সৌদি আরবের ভিসা সেন্টার পক্ষে রায়রায় নামে যে চিঠি দেয়া হয়েছিলো, সেসময় নির্বাহী কমিটির কোন সদস্যের বক্তব্য বা মতামত নেয়া হয়নি। মহাসচিবকে এই সভায় কথা বলতে দেয়ার বিরোধিতা করেন তিনি। বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্যদের সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে রায়রাতে। সহ-সভাপতি মনসুর আহমদ কালাম বলেন, “আমাদের মধ্যে একটা ভাগ হয়েছে। ২৭ জনের কমিটিতে আমরা ১৪ জন ইসি সদস্য, মহাসচিবের প্রতি অনাস্থা দিয়েছি। তারপরও তিনি কিভাবে এই পদে থাকেন? মহিসচিব এনজিওর দালালি করেন এবং তিনি বায়রার চিঠি বিক্রি করেন। যেখানে সেখানে চিঠি দিয়ে দেন নোমান সাহেব। মহাসচিবের কারণেই বায়রায় অনৈক্য হয়েছে।“

তারা মনে করেন বায়রার এই অনৈক্যের কারণে শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশ্বের বিভন্ন শ্রমবাজারে কর্মী যাওয়া কমে ডাবে বলেও আশঙ্কা তাদের।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম-মহাসচিব সাজ্জাদ হোসেন, অর্থ সচিব শওকত হোসেন সিকদার, ক্রীড়া সচিব এস এম নাজমুর হক, জনসংযোগ সচিব মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী খোকন, সদস্য কল্যাণ সচিব কফিল উদ্দিন মজুমদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য এ এইচ মোসলেহ উদ্দিন,  মিজানুর রহমান মজুমদার, রফিক হায়দার ভুঁইয়া, মোহাম্মদ আলী, গোলাম মাওলা রিপন এবং মোহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে