চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি/সোহেল রানাঃ চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে গত ২৭ জানুয়ারি পরীক্ষার পাঁচ দিন আগ থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর সেই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করেই এখনও চুয়াডাঙ্গা শহরে কিছু নামি-বেনামি কোচিং সেন্টার অব্যাহত রেখেছে তাদের কার্যক্রম। তাদের দাবি, কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা মানে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বন্ধ রাখা।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করছে কোচিং সেন্টার, যা সংবিধান পরিপন্থী। এমনই এক অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা পান্না সিনেমা হলের পিছনে অবস্থিত লাইসিয়াম কোচিং সেন্টারটি চলমান রাখায় পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকে সতর্ক করলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিমুল বারি।

চুয়াডাঙ্গা শহরে বিভিন্ন অলিগলিতে কোচিং সেন্টারে প্রাইভেটের নামে চলছে কোচিং ক্লাস। এমনই এক সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের কলেজপাড়ায় শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় #৩৯ স্টাডি কেয়ার হোম কোচিং সেন্টার ঢোকে চুয়াডাঙঙ্গা সাংবাদিকদেও একটি টিম। সেখানে প্রায় ৩০ জন ছাত্র নিয়ে কোচিং করাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইংরেজি প্রভাষক মাহমুদুল হাসান।

সংবাদকর্মী পরিচয় দেবার পর তিনি বললেন, এরা সবাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সামনে পরীক্ষা তাই কোচিং করাতে হচ্ছে। এদিকে সরকারি নির্দেশনা কেন অমান্য করে কোচিং করানো হচ্ছে এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিনিয়ররা যদি আমাদেরকে সাবধান করতো তাইলে আমরা কোচিং করাতাম না।আর সিনিয়ররা যখন মানছে না তখন আমরা কি করবো। এরপর চুয়াডাঙ্গা কলেজপাড়ার #৩৯স্টাডি হোম্#৩৯ নামের একটি কোচিং সেন্টারে গেলে দেখা যায় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হচ্ছে।

সরকারি নিয়ম অমান্য কেন করলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যেহেতু এরা ছোট ফলে এই কোচিংয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। তাছাড়া আমরা বেকার কোন চাকরি নায়। এই একমাস কোচিং বন্ধ করলে আমরা না খেয়ে মরবো। এছাড়াও কোচিং সেন্টারের নামবিহীন চুয়াডাঙ্গা সদর হসপিটাল এলাকায় মোকাদ্দেস স্যার নিজ বাড়িতে প্রাইভেটের নামে চালাচ্ছে কোচিং সেন্টার। এখানে লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা কোচিং করছেন।

এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপিটাল রোড, কলেজপাড়া, কাঠপট্টি, ঈদগা রোড সহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে প্রাইভেটের নামে চলছে কোচিং সেন্টার। এদিকে কোচিং মালিকরা বলছেন, অভিভাবকরা জানান প্রতিষ্ঠানের থেকে ভালো লেখা পড়া হয় না। তাই তারা তাদের সন্তানকে আমাদের কাছে নিয়ে আসছে। আর ভালো ফলাফলের জন্য পাল্লা দিয়ে অভিভাবকরাও তাদের সন্তানকে কোচিংয়ে নিয়ে আসছে। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, যা বর্তমানে বাণিজ্য রুপ ধারণ করেছে। আর এ জন্য কোচিং সেন্টার অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেছেন শিক্ষাবিদরা। কোচিং এর নামে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস।

এ এদিকে গতকাল সকালে অভিযোগ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা লাইসিয়াম কোচিং সেন্টারে যান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশীমুল বারী। এ সময় তিনি পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম কে সতর্ক করেন। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা জারি করা আছে। ইতিমধ্যে আমরা জীবননগর দামুড়হুদা চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন স্থানে কোচিং সেন্টার বন্ধ করেছি। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করা হয়েছে কোচিং সেন্টার নিয়ে। তবে এমন অবস্থায় কোন কোচিং সেন্টার চলে সেই কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সোহেল রানা,
চুয়াডাঙ্গা নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে