ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেছেন, সম্প্রতি পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রমাণ করে যে, এ প্রতিষ্ঠানের আলাদা সক্রিয়তা রয়েছে, রয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব ও কৃতিত্ব। তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলে হবে না, জীবনেও জিপিএ-৫ পেতে হবে। তিনি আরও বলেন, পাঠ্যপুস্তকের অংক মেলানো যতটা সহজ, জীবনের অংক মেলানো ততটা সহজ নয়। জীবনের অংক মেলানো বড়ই জটিল এবং কঠিন। জীবনের অংক মেলাতে হলে নিজেকে জীবনবোধ, মুল্যবোধ ও মানবিকবোধ সম্পন্ন করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আজ আমাদের সন্তানেরা একাকি হয়ে পড়ছে, তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের চিনতে চায় না, আজ তারা অনুভুতি হারিয়ে ফেলছে। আমাদের সন্তানদের অনুভুতিশীল করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, যে সন্তান তার আত্মীয়-স্বজনদের যদি ভাল বাসতে না শেখে, তাহলে আমার দেশকে ভালবাসবে কি করে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে যে দেশ, সেই দেশের প্রতি সন্তানদের মমত্ববোধ, প্রেম, ভালবাসা যদি আমরা সৃষ্টি করতে না পারি, তাহলে তাকে ইংলিশ অথবা বাংলা মিডিয়ামে পড়িয়ে কোন লাভ হবে না। তাই সন্তানদের মধ্যে জীবনবোধ সৃষ্টি করতে হবে। আর সন্তানদের যদি সত্যিকারার্থে জীবনের জিপিএ-৫ পাওয়াতে হয় তাহলে প্রথমে যে জিনিষটি সৃষ্টি করতে হবে তা হলো তাদের আত্মবিশ্বাস। কারণ মানুষের বড় শক্তি হচ্ছে মন ও আত্মবিশ্বাস। মনের শক্তি না থাকলে জীবনে বড় হওয়া যায় না। পৃথিবীতে যাঁরা বড় হয়েছেন তাঁরা নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে পেরেছেন বলেই আজ তাঁরা সফল হয়েছেন। তাই সন্তানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারলে তাদেরকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদেরকে মনে রাখতে হবে পরাজয়কে মেনে নিলেই তুমি পরাজিত। যদি মনে তোমার সাহস না থাকে, তাহলে জেতার আশা করো না। যদি মনে দ্বিধা থাকে তুমি পারবে কি না, তাহলে মনে রেখ তুমি হেরেই গেছ। হারবো ভাবলে হারতো তোমার হবেই। কারণ সাফল্য থাকে মনের ইচ্ছা শক্তির উপর। মনের কাঠামোতে যদি তুমি ভাব তোমার কাজের মান নিচু তাহলে তুমি নিচেই থাকবে। আর যদি তুমি উপরে উঠতে চাও তাহলে নিজের মনে সংশয় রেখ না। কারণ সংশয় থাকলে প্রত্যাশা পূরণ হয় না। মনে রাখতে হবে জীবন যুদ্ধে সব সময় বলবান বা দ্রুতগামীরা জেতে না, যে আত্মবিশ্বাসে অটল সে আজ হোক বা কাল হোক জিতবেই।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করতে সময়োপযোগী এ আয়োজন করায় আয়োজদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।গতকাল মঙ্গলাবর বিকেলে কুষ্টিয়া সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের আয়োজেন, কলেজের কোটপাড়া আরসিআরসি রোডে অবস্থিত ক্যাম্পাস-২ চত্বরে বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. সেলিম তোহা এসব কথা বলেন।সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ কাজী সামছুন নাহার আলো’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জজ কোটের পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের ডি ডাব্লিউ এসএমপি’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী হাবিবুল্লাহ, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অজয় কুমার মৈত্র ও সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের উপদেষ্টা ড. আমানুর আমান। স্বাগত বক্তর‌্য রাখেন সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক এ্যাড. মোসাদ্দেক আলী মণি। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন হারুন-উর-রশিদ। আলোচনাসভা শেষে বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় এবং প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে