ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়ার্কশপ অন ইফেক্টিভনেস অব ইউনিভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট অনুষ্ঠিত
আমাদেরকে এমন কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যাতে সর্বত্র স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা যায় এবং কেউ যেন দুর্নীতি করার সুযোগ না পায় -প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী

ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ (১৮/০৭/২০১৮) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণদানের লক্ষ্যে আইকিউএসি’র উদ্যোগে গ্রন্থাগার ভবনের ৪র্থ তলার সেমিনার কক্ষে ওয়ার্কশপ অন ইফেক্টিভনেস অব ইউনিভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহা। সেমিনারে রিসোর্স পার্সন ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সেকেন্ডারি এন্ড হ্ইায়ার এডুকেশন ডিভিশনের উপসচিব হাবিবুর রহমান। সেমিনারে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. কেএম আব্দুস ছোবাহান।
ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ অর্জন করার জন্য সুদক্ষ কর্মকর্তা তৈরি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে আজকের কর্মশালা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০০৭ সালে এনআইএস (ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি স্ট্র্যাটেজি) বা জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল গঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে এমন কৌশল বা কর্মপ্রণালী গ্রহণ করতে হবে, যাতে সর্বত্র স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা যায় এবং কেউ যেন দুর্নীতি করার সুযোগ না পায়। তিনি বলেন, তিনি আরও বলেন, সুদূর প্রসারী লক্ষ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি চালু করেছেন। আমরা ইতোমধ্যে বিশ্বদ্যিালয় মঞ্জুরী কমিশনের সঙ্গে ৩টি বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সই করেছি। আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীনভাবেও পরিকল্পিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশে বিভিন্ন অফিস, বিভাগ এমনকি পৃথক পৃথকভবে শিক্ষকদের সঙ্গে অনুরূপ চুক্তির ব্যবস্থা করবো যাতে তারা তাদের গবেষণা বা প্রতিশ্রুত কাজটি সমাধান করেছেন কিনা তা বছরান্তে জানা যায়।
ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, আমাদের কর্মকর্তাবৃন্দ সংখ্যা ও গুণে একটা বড় শক্তি। তারা মানসিক ও শারীরিকভাবেও যোগ্য। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের দক্ষতায় প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় লিখিত প্রজেক্ট প্রপোজাল উপস্থাপন করে আমরা একটা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছি। গত জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫শত কোটি টাকার যে মেগা প্রজেক্ট অনুমোদন করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মঞ্জুরী কমিশন বিশ্বদ্যিালয়ের জন্য যে অর্গানোগ্রাম অনুমোদন করে তার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, এ্যডমিনিস্ট্রেশন শব্দটি কলোনিয়াল বা ঔপনিবেশিক। অপর দিকে ম্যানেজমেন্ট শব্দটি আধুনিক সহায়ক ও অনুপ্রেরণাধর্মী। বর্তমান কর্ম পদ্ধতি তাই নি¤œ থেকে উর্ধ্বমুখী অর্থাৎ নিচ থেকে সমস্যা শনাক্ত করে তা সমাধানের জন্য উপরে প্রেরণ করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আজকের এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা যে দক্ষতা অর্জন করবে তাতে সরকার, দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শাহিনুর রহমান বলেন, যে কোন বিষয় সুন্দর করতে চাইলে একটি ইউনিফর্ম ব্যবস্থাপনা দরকার। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসার পর দেশে বৃহৎ পদ্মা সেতু নির্মাণ, সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানা ক্ষেত্রে অর্জিত অগণিত সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইকিউএসি বিশ্বব্যাংকের একটি প্রজেক্ট যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যাত্রা শুরু করেছে। তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নিজেদেরকে দক্ষ মানবশক্তি হিসেবে তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্ষেত্রে কোয়ালিটি সম্পন্ন ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে সকলের নিকট এর সুফল পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান।

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহা বলেন, কর্মজীবনে আমি একজন শিক্ষক। বিভিন্ন একাডেমিক প্রশাসনিক পদে আমার দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়েছে। আমি মনে করি প্রত্যেক প্রফেশনের একটা গ্রামার আছে। সুন্দরভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য অফিস ম্যানেজমেন্টের গ্রামারও আমাদেরকে ভালোভাবে জানতে হবে। নতুন দিগন্তের দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই কর্মশালা বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে রিসোর্স পার্সন হাবিবুর রহমান বিস্তারিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কার্যকারীতা তুলে ধরেন। পরে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচিত বিষয়গুলোর উপর অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অফিস প্রধানসহ ৩০জন সিনিয়র কর্মকর্তার অংশগ্রহণে সেমিনার ও ওয়ার্কশপ সকাল ১১টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে