কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, হুমকি ও মব হামলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা, যায় বাল্য বিবাহের ঘটনায় সমাজের সর্দার জাহেদুল ইসলাম হামলার শিকার হন এবং পরবর্তীতে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ জুন ২০২৫ তারিখে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের আছুয়ার পাড়া এলাকায় একটি বিয়ের আয়োজন করা হয়। কনের বয়স মাত্র ১৫ বছর হওয়ায় বিয়েটি আইনবিরোধী উল্লেখ করে সমাজপতি জাহেদুল ইসলাম বিয়ে স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। এতে বরের পিতা ও ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মৌলভী নূর মোহাম্মদ তারাকি আপত্তি জানান এবং শরিয়তের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিয়ে বন্ধ না করার ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাহেদুল ইসলাম দেশের প্রচলিত আইন ও বাল্যবিবাহের সামাজিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরলে নূর মোহাম্মদ তারাকি ও তার অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়েটি বন্ধ করে দেন। সে সময় স্থানীয়দের অনুরোধে কাউকে গ্রেপ্তার না করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। হামলার পর থেকে জাহেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে প্রকাশ্যে ‘কুফরি মতবাদে বিশ্বাসী’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তার জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তার ছোট ভাইয়ের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে একটি মব সৃষ্টি করে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় জাহেদুল ইসলাম ও যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ শাহরিয়ার-এর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবেও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলায় নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মাওলানা সরওয়ার কুতুবী। তার সঙ্গে আরও মৌলভী নুর মোহাম্মদ তারাকি, মৌলভী দিদারুল ইসলাম, মৌলভী নুরুল আবছার’সহ কয়েকজন মৌলভীসহ ২০ থেকে ৩০ জন হামলায় অংশ নেন। জাহেদুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং ও ফ্রেমিং করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের কিছু নেতা-কর্মী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব ঘটনায় জড়িত। পাশাপাশি কুকি-চিন সংশ্লিষ্ট বিরোধকে উসকানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এদিকে বন্ধ হওয়া বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আরও বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, বাল্যবিবাহটি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয়। পরবর্তী ঘটনাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক বিষয় জড়িত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবার নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। জাহেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শাহরিয়ারের বাড়িতে হামলার ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহেদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে