ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ (ওএসএল) বিভাগের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দিনব্যাপী নানা আয়োজনের অংশ হিসেবে গত ২৯শে জুন (রবিবার) ‘কৌশলগত নেতৃত্ব: প্রতিকূল পরিবেশে যুব ক্ষমতায়ন ও নৈতিক নেতৃত্ব’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে। ১১ দিনের এই আয়োজনের মধ্যে ছিল মুভি ডে, আর্ট এক্সিবিশন, ওএসএল ম্যারাথন, স্পোর্টস ডে, দাবা প্রতিযোগিতা, বিতর্কসহ আরও নানা কার্যক্রম।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ. এফ. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া, আইকিউএসি পরিচালক ড. এম. রেজাউল ইসলাম এবং ওএসএল বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মঈন।
সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিভাগের অধ্যাপক ও এক্সিকিউটিভ এমবিএ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শরীয়ত উল্লাহ। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুর রহমান, যিনি পরবর্তীতে সমাপনী বক্তব্যও রাখেন।
সেমিনারে অধ্যাপক ড. মো. শরীয়ত উল্লাহ বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব জরুরি। একজন নেতার কর্মপদ্ধতি প্রতিষ্ঠান বা সমাজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ওএসএল বিভাগ এই দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি দিচ্ছে।
কামরান টি. রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নেতৃত্বের মানে শুধু কর্তৃত্ব নয়—বরং সংকটময় মুহূর্তেও নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা। এ ক্ষেত্রে তরুণ নেতৃত্ব আশার আলো।
উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ওএসএল বিভাগ স্বল্প সময়ে বিশিষ্ট অবস্থান তৈরি করেছে। এই আয়োজন প্রমাণ করে যে ওএসএল এখন একাডেমিক ও সামাজিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন, নেতৃত্ব এখন আর একক ব্যক্তি নির্ভর নয়, বরং সম্পর্ক ও মূল্যবোধভিত্তিক। প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যবোধকেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
ড. রেজাউল ইসলাম বলেন, এআই-এর যুগে নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি কোর্স কারিকুলামে নৈতিকতা ও যুব নেতৃত্ব বিষয়ে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মঈন বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই নৈতিক নেতৃত্ব। তরুণদের শুধু ক্যারিয়ার নয়, বরং চরিত্র গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জ্ঞানকে যখন পণ্য হিসেবে দেখা হয়, তখন আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলোর গুরুত্ব বেড়ে যায়। তিনি উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিষয়ে পুঁজিবাদের বাইরে চিন্তা করার আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে মো. রাশেদুর রহমান বলেন, এই সেমিনার আমাদের শিখিয়েছে, কেবল ব্যবসা সফলতা নয়—নৈতিকতা ও মানবিক নেতৃত্বই ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তরুণরা ভবিষ্যতে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে পরিণত হবে।



























