আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনলাইনে গুজব, অপপ্রচার ও ফলস প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় সারাদেশে সমন্বিত ও জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার—এমন তথ্য জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি মিস ইনফরমেশন প্রতিরোধ সেল ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। ওই সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল, বিটিআরসি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম একযোগে কাজ করছে। তিনি বলেন, “অপপ্রচার শনাক্ত ও প্রতিরোধে ফ্রন্টলাইনার ও ব্যাক অফিস টিম নিয়ে একটি বিশেষ কাঠামো গঠন করা হয়েছে।”

বিশেষ সহকারী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিস ইনফরমেশন, নির্বাচনবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট শনাক্তে একটি হটলাইন চালু রয়েছে। সরকার সরাসরি কনটেন্ট টেকডাউন করতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্টিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় অন্তত দুটি টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার নিরপেক্ষ থাকলেও গণভোটের ক্ষেত্রে সরকার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।” তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থানের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ সহকারী জানান, নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে সরকার ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ নামে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। বর্তমানে এতে ১২টি মন্ত্রণালয় যুক্ত রয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয় যুক্ত হলে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা সব ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে একদিকে জনগণের হয়রানি ও সময় অপচয় কমবে, অন্যদিকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সেবা প্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত উপাত্ত উদ্যোক্তাদের কাছে একটি আমানত। এসব তথ্য সুরক্ষিত ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার না হলে নাগরিকের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মানসিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে