
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের যে সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, তা দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সুপারিশগুলো শুধু নারীদের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, বাংলাদেশের এই উদ্যোগ বিশ্বে উদাহরণ হয়ে উঠুক। বিশ্বের নারীরা এই প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে এবং অনুপ্রাণিত হবে। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্তভাবে ছাপা ও বিতরণ করা হবে, যেন এটি শুধু একটি দলিল হয়ে অফিসে পড়ে না থাকে।
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, জুলাইয়ে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের স্মরণে এমন কিছু করতে চেয়েছি, যা সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে। তিনি জানান, কমিশনের সুপারিশগুলো তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে—কিছু বাস্তবায়নযোগ্য এ সরকারের আমলেই, কিছু পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য, আর কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। এতে নারী আন্দোলনের আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে কমিশনের সুপারিশ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একে ‘ধর্মীয় বিধান অবমাননাকর’ উল্লেখ করে কমিশন বাতিলের দাবি জানিয়েছে। রোববার (২০ এপ্রিল) কাকরাইলের আইডিইবিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে তারা। পাশাপাশি ৩ মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেয়।
হেফাজতের দাবি, কমিশনের সুপারিশে ইসলামী উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইনকে বৈষম্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী। এছাড়া বহুত্ববাদ ও অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রস্তাবনাকেও তারা প্রত্যাখ্যান করে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও কমিশন বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেছে, সুপারিশে ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পারিবারিক বিধানকে অস্বীকার করা হয়েছে। ‘অভিন্ন পারিবারিক আইন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসলামের বিধানকে বাদ দিয়ে পশ্চিমা সমাজব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দলটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে সুপারিশগুলোকে ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, কিছু সুপারিশ কোরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তা সমাজে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সবশেষে, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও উপস্থাপন করা হবে, যাতে জাতীয় স্তরে এ নিয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি করা সম্ভব হয়।


























