ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র রোমে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চলছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির ছায়ায়। আলোচনায় ইরানের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। সরাসরি নয় বরং ওমানের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে বার্তা চালাচালি করে চলছে আলোচনা। এর আগে ওমানের মাসকাটে প্রথম দফার আলোচনাকে উভয়পক্ষই ‘গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে। আলোচনার আগে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আরাকচি বলেন, ইরান সবসময় কূটনীতিতে বিশ্বাস করে এবং একটি ‘যৌক্তিক ও ন্যায্য’ পারমাণবিক চুক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই চুক্তি যেন ইরানের বৈধ অধিকার মেনে নেয় এবং অন্যদিকে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

রাশিয়ায় দেওয়া এক বক্তব্যে আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাস্তববাদী হয়, তাহলে চুক্তি সম্ভব। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি টুইট করে লেখেন, রোম এখন শান্তি ও সংলাপের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে ইরান চায় না যে এই আলোচনাকে ঘিরে অতিরিক্ত আশাবাদ তৈরি হোক। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই বলেন, তিনি অত্যন্ত আশাবাদীও নন, আবার হতাশও নন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমি শুধু চাই ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায়। আমি চাই ইরান হোক একটি সমৃদ্ধশালী দেশ। এদিকে, ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হামলা চালানোর সম্ভাবনা তারা উড়িয়ে দিচ্ছে না। ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরান ও ছয় শক্তিধর দেশের মধ্যে হওয়া ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেন এবং পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ২০২৪ সালে আবার প্রেসিডেন্ট হয়ে ফিরে এসে তিনি ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশল পুনরায় চালু করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান যেন উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে, যেটা তাদের মতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যেতে পারে। তেহরান দাবি করছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং কিছু সীমাবদ্ধতার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়, তবে চায় এমন নিশ্চয়তা যে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে আবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না। ২০১৯ সাল থেকে ইরান চুক্তির নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পশ্চিমাদের মতে একটি বেসামরিক প্রকল্পের চেয়ে অনেক বেশি।

একজন সিনিয়র ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কঠোর শর্তগুলো হলো, সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস নয়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ নয়, ২০১৫ সালের চুক্তির সীমার নিচে ইউরেনিয়াম মজুত কমানো নয়, তারা প্রতিরক্ষা বিষয়, যেমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা এর পরিসীমা নিয়েও আলোচনা করতে রাজি নয়। এদিকে রাশিয়া বলেছে, তারা আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে