ইয়াছির আরাফাত, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী(উদীচী)
আধুনিক বিশ্বে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল কেবল স্বাস্থ্যগত আবিষ্কার নয়, বরং নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা, যৌন অধিকারের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন ক্ষেত্রেই এর ব্যবহারকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয়। নারী স্বাধীনতা ও প্রজনন অধিকার আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একজন নারী তার শরীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। সন্তান নেবেন কি না, কখন নেবেন—এই সিদ্ধান্ত একান্তই তার নিজস্ব। ‘My body, My choice’—এই দর্শনের আলোকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নারীর প্রজনন স্বাধীনতার হাতিয়ার।

নিরাপদ যৌনতা ও স্বাস্থ্যনীতি যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ থেকে রক্ষা—এই দুই উদ্দেশ্যে পিল ও অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জন্মনিয়ন্ত্রণকে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা উন্নত দেশে নারীর শিক্ষা ও কর্মজীবনে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সহজলভ্যতা। সন্তান জন্মদানে সময় ও সংখ্যার নিয়ন্ত্রণ থাকায় নারীরা পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি অংশ নিতে পারছে।

সম্পর্ক ও যৌনতার নতুন সংজ্ঞা সমাজে যৌনতা কেবল সন্তান উৎপাদনের উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি ভালোবাসা, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ও ব্যক্তিগত সুখানুভূতির মাধ্যম। এ কারণে অবিবাহিত সম্পর্কেও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক অবস্থান তবে সব ইসলামী মতবাদ জন্মনিয়ন্ত্রণে উদার নয় কিছু ক্ষেএে হারাম বলা হয়েছে। ইসলাম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ একটি সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামে সন্তান জন্ম দেয়াকে একটি নিয়ামত হিসেবে দেখা হয়। তবে পরিবার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হারাম—এমন ধারণা দেয় ইসলামী ফিকহের সর্বজনীন মতে। হাদীসে সাহাবিদের সহবাসের সময় আযল (coitus interruptus) পদ্ধতি ব্যবহারের নজির পাওয়া যায়, যা প্রকারান্তরে জন্মনিয়ন্ত্রণেরই একটি রূপ। বিষয়টা অনেকটা ইসলামি নিয়মে হারাম আবার নিরুৎসাহিত করণ দেখায়।

জন্মনিরোধক পিলের হুকুম বা আদেশের ব্যপারে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। জন্মনিরোধক পিল ব্যবহারের ব্যাপারে ইসলামী স্কলারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে অনেক আলেম একে ‘মুবারাহ’ অর্থাৎ অনুমোদনযোগ্য বলেছেন কিছু শর্তসাপেক্ষে স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব নয়, পিল যদি সাময়িক হয় এবং প্রজনন ক্ষমতা ধ্বংস না করে, তবে তা বৈধ। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতি: যেহেতু সন্তান জন্ম স্বামী-স্ত্রীর যৌথ অধিকার, তাই পরস্পরের মত থাকতে হবে।চিকিৎসকের পরামর্শে: কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকে এমন নিশ্চয়তা প্রয়োজন। কোনো হারাম উপাদান না থাকে: পিলের উপাদান যদি ইসলামে নিষিদ্ধ কিছু দিয়ে তৈরি হয়, তবে তা হারাম হতে পারে।একজন নারী নিজের শরীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন—এই নীতি আজকের বিশ্বে মানবাধিকারের অংশ। যদি কোনো নারী বারবার সন্তান ধারণে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন, তবে পরিবার পরিকল্পনা তার জন্য একটি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। পিল ছাড়া অন্য পদ্ধতি জন্য উৎসাহিত করে। জন্মনিরোধক পিল ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম তবে এর ব্যবহার হতে হবে সচেতন, যৌক্তিক ও শরিয়তের সীমারেখা অনুসারে। নারীর নিরাপদ যৌনতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং পরিবারে মানসিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পিল হতে পারে একটি কার্যকর হাতিয়ার—যদি তা হয় সুপরামর্শে, সম্মতিতে ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে।উন্নত বিশ্বে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কে সমাজের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি চোখে দেখে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলকে নারীর অধিকার, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।তবে নৈতিকতা, ধর্ম ও পরিবার বিষয়েও কিছু অংশের মধ্যে উদ্বেগ ও বিতর্ক রয়েছে।সমগ্র পশ্চিমা সমাজ পিলকে অবৈধ বা নিষিদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বের আলোকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। আপনার প্রবন্ধে চাইলে এখন “ পশ্চিমা সমাজে এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্বীকৃত। এই বিশ্লেষণ ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আধুনিক সমাজের পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যে একটি বৈষম্য তুলে ধরে, যা বিশ্বব্যাপী নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে