জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর মোলাগঞ্জ নৌকা হাটে ক্রেতার অভাবে উৎসাহ হারাচ্ছেন বিক্রেতা ও নৌকা তৈরির কারিগররা। বাজারে ক্রেতার সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ার কারনে নৌকা বিক্রি হচ্ছেনা। ধস নেমেছে নৌকা বিক্রিতে। ফলে নৌকা তৈরিতে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উৎসাহ হারাচ্ছেন নৌকা তৈরির কারিগররা। নদী ও বিল-ঝিলে দেখা নেই পানির। আষাঢ় মাস বিদায় নিয়েছে, প্রত্যাশিত শ্রাবণ মাসও বিদায় নিলো। প্রকৃতির ঋতুতে ধরা দেয়নি এবার বর্ষাকাল। এবার বর্ষাকালে নদী-নালা খাল-বিলে দেখা মেলেনি পানির সমারোহ। যেন বর্ষার প্রকৃতির প্রকৃত মৌসুম থেকে হারিয়ে গেছে বর্তমানকালে। এ’কারণে তিতাস, ডোলভাঙ্গা, মেঘনা নদীর শাখা নদীগুলোতে নৌকার হাটে চলছে যেন ভীষম খরা। তাই এবার নৌকা তৈরীতে লোকসান গুনতে হচ্ছে নৌকা ব্যবসায়ীরদের। হতাশ হয়ে পড়ছেন নৌকা তৈরির কারিগররাও। এমনি এক চিত্র দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ নৌকার হাটে।

সুত্রে নৌকা বাজার সম্পর্কে জানা যায়, নৌকা নিয়ে বসে আছে মাত্র একজন ব্যবসায়ী। বিক্রির জন্য ছোট ও মাঝারি আকারের ৩টি নৌকা সাজিয়ে রেখেছেন। ক্রেতা তেমন না থাকায় রৌদ্রের খরতাপে ছাতা মাথায় দিয়ে অপেক্ষায় বসে আছেন তিনি। মাওলাগঞ্জ নৌকার হাটে নৌকা বিক্রি করতে হাটে আসা একজনের বাড়ি হোমনা উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি জানান, মাত্র ৩টি নৌকা নিয়ে হাটে এসেছেন তিনি। আগে প্রতি সাপ্তাহে গড়ে ৪০-৪৫টি নৌকা বিক্রি করতে পারতেন হাটে। এখন সাপ্তাহে ৭-৮টি নৌকা বিক্রি করতে পারেন।

উপজেলার দরিয়াদৌলত গ্রামের আরেক নৌকা ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়া জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নৌকার চাহিদা ভালো থাকত। এ বছর তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন আর হাটে নৌকা নিয়ে বিক্রি করতে যান না। কেউ অর্ডার করলে নৌকা তৈরি করে দেন তিনি। তাছাড়া সাড়ে ১০ হাত নৌকা তৈরিতে তার সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ ক্রেতারা তিন হাজার, সাড়ে তিন হাজার টাকার বেশি দাম বলেন না। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নদীতে পানি নেই, নৌকা কিনে করব কী? বর্ষার রূপ যেন এখন প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে।

মাওলাগঞ্জ নৌকার হাঁটের ইজারাদার মো. খোকা মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নৌকা বিক্রি হচ্ছে খুবই কম। বিক্রেতাদের এখন সারাদিনে ২-৩টি নৌকা বিক্রি করা দুরূহ। বাজারে তেমন নৌকা নাই। নদ-নদী ও খাল-বিলে পানি না থাকায় বাজারে দেখা দিয়েছে নৌকার ক্রেতার অভাব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে