মাওলা সুজন, নোয়াখালী প্রতিনিধি।। নোয়াখালীতে প্যানকেয়ার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সে সাথে মরদেহ আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে মৃত রোগীর স্বজনেরা সোমবার (২১ আগস্ট) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯’শে আগস্ট জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার আমকি গ্রামের মো. বাবর (২৪) নামে এক যুবক বিষপান করেন। ঐদিন দিবাগত রাত প্রায় ১ টার দিকে পরিবারের লোকজন তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ভোর বেলায় হাসপাতালে অবস্থান করা কয়েকজন দালাল ওই রোগীর স্বজনদের ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী বেসরকারি প্যানকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওই হাসপাতালে ভর্তি হলেও উন্নতমানের কোন চিকিসা না পেয়ে একপর্যায়ে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখেন
রোগীর বাবা জাহাঙ্গীর আলম জানান, হাসপাতাল কতৃপক্ষ পরবর্তীতে মৃত্যুর খবর গোপন রেখে ৫০ হাজার টাকার বিল করেন। এ সময় তারা স্বজনদের ৪৭ হাজার টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। রোগীর বাবা আরো জানান, তারা অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র। তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা দিলেও প্যানকেয়ার হাসপাতাল বাকী টাকার জন্য রোগীকে কেবিনে তালাবদ্ধ করে স্বজনদের চাপ প্রয়োগ করেন। এক পর্যায়ে, প্যানকেয়ারের দাবিকৃত বাকী টাকা সংগ্রহ করে হসপিটালে আসলে তারা টাকা রেখে বলেন, রোগী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আছে। আপনারা সেখানে যান। এরপর রোগীর স্বজনেরা দ্রæত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গেলে দেখেন তাদের রোগী মৃত অবস্থায় হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে রয়েছে। নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম জানান, ওই রোগী বিষ খেয়ে ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে আমাদের এখানে ভর্তি হয়। পরবর্তীতে, রোগীর স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারী হাপাতালে নিয়ে যান। ২০ আগস্ট পুনরায় আমাদের হাসপাতালে তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে রয়েছে।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, মৃতের স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাইম নুসরাতকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ’বিষয়ে প্যানকেয়ার হসপিটাল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মানিকের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।





























