
আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা।। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুসকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাজ থেকে, ২০০২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বেলকুচি উপজেলার রান্ধুনিবাড়ী পুলিশ ক্যাম থেকে লুট হওয়া ১টি এসএমজি, ১ টি থ্রি-নট থ্রি রাইফেল, ১টি থ্রি নট থ্রি কাটা রাইফেল, ১১ রাউন্ড থ্রি নট থ্রি তাজা গুলি, ১টি গুলির খোসা, ২টি চাকু, ১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ১টি অটো ভ্যান গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, পাবনা জেলার চাটমোহর থানার বাঙ্গালা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আমির সরকারের ছেলে মো. জহুরুল ইসলাম তুষার (২৫), দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী থানার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের বিকাশ মহন্তের ছেলে বিশ্বনাথ মহন্ত (৩২) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সুজাদক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত গফুর মোল্লার ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০) এই জেলার রায়গঞ্জ থানার কৃষ্ণপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত গকুল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী বলরাম চন্দ্র দাস (৩৮) তাড়াশ থানার গুরপিপুল গ্রামের মৃত শংকর চন্দ্র দাসের ছেলে উত্তম চন্দ্র দাস (৪০), টাংগরা দক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত জুরান উদ্দিনের ছেলে মো. রহমত আলী (৩৮), দেওঘর গ্রামের মৃত গোনেস উরাও এর ছেলে শ্রী সুনীল উরাও (৪৫), পাবনার কাটাখালী পুর্বপাড়া গ্রামের আলহাজ্জ মো. আমির সরকারের ছেলে মো. রহমত আলী (৪৫)। শনিবার ভোর রাতে তাড়াশ দেশীগ্রাম ইউনিয়নের দোগাড়ীয়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ একটি সন্ত্রাসী দল মহড়া দিচ্ছে। গোপন সংবাদে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও তাড়াশ থানার বিশেষ টিম এই সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দানকারী তাড়াশ থানার তালম ইউনিয়নের দেওঘর গ্রাম হতে শ্রী সুনীল উরাওকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন ও পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মন্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন বলেন, এক বছর আগে তাদের পরিকল্পনা ছিল হত্যাকান্ড ঘটানোর। ২০১৯ সালে বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের এসআই নান্নুর উপর সর্বহারা পার্টির পরিচয়ে গুলি করা হয়েছিল। ওই মামলার স্বাক্ষী ছিলেন ভিকটিম আব্দুল কুদ্দুস। পুলিশের উপর গুলি ছোড়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই একজন আসামী এনকাউন্টারে মারাও গেছেন। যাদেরকে আসামী করা হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে সর্বহারাদের ধারণা এটা তাদের উপর অবিচার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা ভিকটিম আব্দুল কুদ্দুসের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। এ কারণেই আব্দুল কুদ্দুসকে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন বলেন, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় উপজেলার ভোগলমান বাজারে শত শত লোক সমাগমের মধ্যে মুখোশধারী আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী ১৪/১৫ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী গুলি করে আ. কুদ্দুস সরকারকে হত্যা করে। হত্যা করে বাজারে পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির লিফলেট এবং সর্বহারা পার্টি জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনায় ২০ ফেব্রুয়ারী তাড়াশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. সামিউল আলম, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন আলী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম, ওসি তদন্ত নূরে আলম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. জুলহাজ উদ্দিনসহ প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক্স মিড়িয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজগঞ্জ নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ





























