এস.এম. পারভেঝ, ঝালকাঠি সংবাদদাতা।।
ঝালকাঠির ১শ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ঔষধ, প্যাথলজি ও এক্সরে বিভাগের কেমিক্যাল সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা। সরবরাহের টেন্ডার হলেও অনুমোদন মিলছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। তাই ঠিকাদারকে কার্যাদেশ না দেয়ায় এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়। এতে এক্সরে ও প্যাথলজি বিভাগের সকল কার্যক্রম প্রায় ৩মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর এই হাসপাতালে ঔষধসহ প্যাথলজি, এক্সরে বিভাগের সার্বিক সামগ্রীর জন্য ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার টেন্ডার আহবান করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২’কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাকি ৬৫% টাকার ঔষধ সামগ্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা হয়। ঝালকাঠি অংশের টেন্ডার হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া যাচ্ছে না।

প্যাথলজি বিভাগের ৪০টি আইটেমের বিপরীতে প্রতিদিন রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হতো। কিন্তু উপাদান সংকটে অধিকাংশ পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এরমধ্যে সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিরাম ইউরিক এসিড, ব্লাড সুগার, এসজিবিটি, ব্লাড গ্রুপিং, আরএ টেস্ট, এইচবিএসএজি উল্লেযোগ্য পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখায় চরম বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা প্রত্যাশীরা। টেন্ডার কার্যক্রম ইতিপূর্বে সম্পন্ন হলেও অনুমোদন মিলছেনা কার্যাদেশ দেয়ার। এতে হাসপাতালে আসা রোগীদের হয়রানীর পাশাপাশি বাহিরের বেসরকারী ল্যাব থেকে অধিক পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পরেছে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী ও শিশু রোগীরা হাসপাতালের ভিতরে পরীক্ষার কার্যক্রম করাতে না পারায় বেশি হয়রাণীর শিকার হচ্ছে। এছাড়াও সরকারিভাবে এখানে অল্প টাকায় পরীক্ষা করাতে না পারায় রোগীদের বাহির থেকে করাতে দুই তিন গুণ বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। অনেকের সাধ্যে না কুলানোর কারণে পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছেনা।

হাসপাতালে হাটুর এক্সরে পরীক্ষা করাতে আসা পোনাবালিয়া গ্রামের নাজিউর রহমান বলেন, জানতাম না এক্সরে বন্ধ আছে। আউটডোরে চিকিৎসক এক্সরে করানোর পরামর্শ দেয়। কিন্তু এখানে না থাকায় ৪শ টাকার এক্সরে বাহিরের ল্যাব থেকে ৯শ টাকায় করাতে হয়েছে। এছাড়া কেওড়া ইউনিয়নের ফুলবানু, নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের মানিক বিশ্বাস বাহির থেকে রক্ত, প্রসাব, এসবিএসএজি এবং এজিপিটি পরীক্ষা করিয়ে আউটডোরে রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য অপেক্ষা করছে। তারা জানান, আমাদের এসব পরীক্ষা করাতে বাহিরে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যা হাসপাতাল থেকে করলে ১৭শ টাকায় পারতাম।

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত জীবন বড়াল বলেন, শুনেছি ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করতে অনুমোদন পাচ্ছেনা। তাই অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বেশ কিছু দিন বন্ধ। শিঘ্রই আসবে তবে ঈদের পরেই আসার সম্ভাবনা বেশি। হাসপাতালের এক্সরে বিভাগের দায়িত্বে থাকা দিলীপ রায় জানান, চলতি বছরের গত ১৫’ই ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লিম সরবরাহ না থাকায় আমার এখানে কোন কাজ হচ্ছে না। রোগীরা এসে ফেরৎ গেলেও কিছুই করার নেই।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১’ই মার্চ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের নতুন তত্বাবধায়ক ডা. শামিম আহমেদ যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর কার্যাদেশ না দেয়ায় এ জটিলতা চরম আকার ধারণ করেছে। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের ঔষধ সরবরাহের ঠিকাদার সোহাগ কৃষ্ণ জানান, গত ৬’মাস আগে টেন্ডার হলেও এখনো কার্যাদেশ পাইনি। তাই আমি এ হাসপতালের ঔষধসহ অন্য মালামাল ও সামগ্রী সরবরাহ করতে পারছি না। শুনেছি কার্যাদেশ দেয়ার আগে নাকি প্রশাসনিক অনুমোদন নিতে হয়। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুমোদনের ফাইল পরে থাকায় আজ পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। এ’প্রসঙ্গে তত্বাবধায়ক ডা. শামিম আহমেদ জানান, ২/১দিনের মধ্যেই কার্যাদেশ দেয়া হবে। ওষুধ আসতে কিছুদিন সময় লাগবে। ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. এইচএম জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি তত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকাকালিন এই টেন্ডারের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখে এসেছি। কিন্তু তারপরেও তত্বাবধায়ক কেন কার্যাদেশ দিচ্ছে না সেটা আমার বোধগম্য নয়।

ঝালকাঠি নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে