খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. শহীদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গত তিন বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ-সংক্রান্ত অধিকাংশ নথি দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় ও স্থানীয়সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খুকৃবির সাবেক ভিসির নিয়োগবিষয়ক দুর্নীতির একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে তুলে ধরা হয় ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪২৬ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, মাত্র তিন বছরে ৪৩টি বিভাগ খোলা, তৎকালীন ভিসির ছেলেমেয়ে, শ্যালক, ভাতিজা, ভাগনেসহ আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ, ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়োগ অব্যাহত রাখাসহ নানান অনিয়মের বিষয়। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ আগস্ট ভিসির ছেলেমেয়েসহ ৭৩ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের নভেম্বর মাসে দুদকের সভায় খুকৃবির নিয়োগে অনিয়ম অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ৭ ডিসেম্বর অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক এরশাদ মিয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি গত ২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে ৪২৬’জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, প্রার্থীদের আবেদন, লিখিত পরীক্ষার খাতা, প্রাপ্ত নম্বর, নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ, মৌখিক পরীক্ষায় নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের প্রত্যেকের পৃথক নম্বরশিট, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অকৃতকার্য প্রার্থীদের নামের তালিকা, অযোগ্যতার ব্যাখ্যা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার প্রতিবেদনের সত্যায়িত ছায়ালিপি ১০ জানুয়ারির মাধ্যমে জমা দেয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এত নথি অল্পদিনের মধ্যে দেয়া সম্ভব না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সময় বৃদ্ধির আবেদন করে। দুদক ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বর্ধিত করে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নথিগুলো অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। এ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা এরশাদ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, নথির আংশিক বুঝে পেয়েছি।














