
নিজস্ব প্রতিবেদক।। সাদিয়া রশ্নি সূচনা, বর্তমান সময়ের তরুণ উপস্থাপক। একটা সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমা দেখতে আসতেন তিনি। বন্ধু, স্বজনদের নিয়ে সিনেমা দেখবেন বলে ক্লাস ও অন্যান্য হাতের কাজ আগেই সেরে নিতেন। উৎসবমুখর পরিবেশে দেশ-বিদেশের কলাকুশলীদের উপস্থিতিতে তাদেরই সিনেমা দেখার চমৎকার সুযোগটি মিস করতে চাইতেন না। আর সেই ফেস্টিভ্যালেই গত বছর প্রথম অফিশিয়াল হোস্ট হিসেবে কাজের সুযোগ পান তিনি। গতবছরের ধারাবাহিকতায় এবারে দ্বিতীয়বারের মতো সিনেমা জগতের অত্যন্ত সম্মানজনক এই মঞ্চে উপস্থাপক হিসেবে দাঁড়াবেন সূচনা।
বিডি টাইমস নিউজের সাক্ষাৎকারে সূচনা বলেন, ‘বছরে একবারই বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের এই আয়োজনটি বড় পরিসরে হয়। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন। পুরো আয়োজনের সাথে থাকবেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য সিনেমাপ্রেমীরা। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আনন্দের, অনেকটা স্বপ্নের মতো’। ২০২০’সালে একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে “চায়না বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্যাম্প” এর অনুভূতির কথা জানাতে এসে, সেই অনু্ষ্ঠানেই উপস্থাপক হবার প্রস্তাব পান সূচনা। সেসময় গ্রাজুয়েশন শেষ না হওয়ায় কিছুদিন সময় নেন সূচনা। অতঃপর ২০২১’র মার্চে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে যুক্ত হন। গেস্ট থেকে হোস্ট হওয়া সূচনা পরবর্তীতে উপস্থাপক হিসেবে নিজের পরিচয় গড়তে খুব বেশি সময় নেননি। স্পষ্ট উচ্চারণ, নান্দনিক পরিবেশনা ও পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে গেছেন স্বমহিমায়।
বিডি টাইমস নিউজের সাথে আলাপচারিতার সময় সূচনা বলেন,ছোট বেলা থেকে যখন টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতাম তখন থেকে আমার উপস্থাপক হওয়ার এক প্রবল মনোবাসনা কাজ করত। টিভি সেটের সামনে বসে অনুষ্ঠান দেখার পাশাপাশি উপস্থাপকদের অনুকরন করতাম। কিভাবে তারা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছে তা তিনি নিজে নিজে চর্চা করতাম। যা পরবর্তীতে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচিত করে তোলে। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে স্টেজ এ সঞ্চালনা করার অনুভূতি কেমন জানতে চাইলে সূচনা বলেন, সত্যি কথা বলতে প্রথম যখন বড় স্টেজ এ উঠেছিলাম তখন মনে হচ্ছিল পারব তো ? আবার মনে হচ্ছিল যদি কথা এলোমেলো হয়ে যায় ! এমন দ্বিধাদন্দে ভুগছিলাম। পরে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর জড়তা কাটতে শুরু করে। পুরোনো কথা মনে করে মুচকি হাসি দেন সূচনা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি উপস্থাপনাকে ভালোবাসি ,এটা আমার ভালোলাগার -ভালবাসার জায়গা। নিজেকে আরো সমুন্নত করে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বাংলাদেশকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরতে চাই। এবছর ২১’তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আসছেন ওপার বাংলার গুণী অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী ও শ্রীলেখা মিত্র। দেশবিদেশের অন্যান্য সিনেমাপ্রেমীদের সাথে সাথে তাঁদের উপস্থিতি এই আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ করবে বলে মনে করেন এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সূচনা। চলচ্চিত্র উৎসবটি চলবে ১৪-২২ জানুয়ারি। ৯’দিনব্যাপী উৎসবে প্রদর্শিত হবে ৭১টি দেশের ২৫২টি চলচ্চিত্র। এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, ট্রিবিউট, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, শিশুতোষ চলচ্চিত্র, উইমেন্স ফিল্মমেকার, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্র এবং আধ্যাত্মিক চলচ্চিত্র—এই ১০টি বিভাগে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে।
উৎসব চলাকালে দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে আলিয়ঁস ফ্রসেইজ, বাংলাদেশে শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর অডিটরিয়াম ও স্টার সিনেপ্লেক্সে। ১৯৯২ সাল থেকে “নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ” স্লোগানকে সামনে রেখে, নিয়মিত চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে আসছে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি। এই সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে।

বিনোদন ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ



























