সাব্বির আহমেদ শ্রাবণ:
আমির হোসেন বাবু। খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী, নৃত্যপরিচালক ও অভিনেতা। যিনি তাঁর সময়ে বাংলাদেশের সিনেমার অপরিহার্য্য একজন নৃত্যপরিচালক ছিলেন। গুণী এই নৃত্যপরিচালক আমাদের চলচ্চিত্রের গানকে অনেক সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁর নৃত্যের ছন্দে। বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা নৃত্যশিল্পী আমির হোসেন বাবুর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০০৩ সালের ৯ জুলাই, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫১ বছর। মৃত্যুদিবসে প্রয়াত আমির হোসেন বাবুর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

আমির হোসেন বাবু ১৯৫২ সালের ২৮ মার্চ, ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ওয়াসায় চাকরি করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সাথে পুরান ঢাকার আজিমপুরে বসবাস করতেন। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট শাহীন স্কুল থেকে মেট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে ডিগ্রী পাস করেন আমির হোসেন বাবু। নৃত্যকলায় ‘বাফা’ থেকে ডিপ্লোমা করেন তিনি। চার ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর ছোট তিন বোন- ডলি, শেলী, লিলি তিনজনই সুপরিচিত নৃত্যশিল্পী।

আমির হোসেন বাবুর প্রথম নৃত্য পরিচালিত ছবি রূপসনাতনের ‘দয়াল মুর্শিদ’ মুক্তিপায় ১৯৭৩ সালে। তাঁর নৃত্য পরিচালনায় অন্যান্য ছবি- গুন্ডা, বাদশা, দস্যু বনহুর, দোস্ত দুশমন, বন্ধু, অলঙ্কার, সারেং বৌ, আরাধনা, জীবন নৌকা, অভিমান, অভাগী, ছোট মা, সুন্দরী, দোস্তী, লাল কাজল, খোকনসোনা, ঘর জামাই, নান্টু ঘটক, দুই রাজকুমার, জয় পরাজয়, রজনীগন্ধা, নাজমা, ক্ষুধা, কালো গোলাপ, সিকান্দার, বানজারান, নয়নের আলো, উজানভাটি, বাদল, রাজকন্যা, প্রিন্সেস টিনা খান, চোর, মান অভিমান, তালাক, ফুলশয্যা, দুনিয়াদারি, দেশবিদেশ, আওয়ারা, অশান্তি, মিস লোলিতা, আঁখি মিলন, মহা নায়ক, লালু মাস্তান, রাস্তার রাজা, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, সমর্পণ, স্বামী-স্ত্রী, ভেজা চোখ, জীবনধারা, যোগাযোগ, ভাইজান, ন্যায় অন্যায়, ব্যাথার দান, স্বপ্ন, নীতিবান, শিকার, মায়ের দোয়া, রাঙ্গাভাবী, জন্মদাতা, সত্য মিথ্যা, দোলনা, দাঙ্গা, পদ্মা মেঘনা যমুনা, অচেনা, বাদশা ভাই, বেপরোয়া, বন্ধু আমার, চোরের বউ, অন্ধ বিশ্বাস, অবুঝ সন্তান, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, মৌসুমী, অন্ধপ্রেম, বিক্ষোভ, গোলাপী এখন ঢাকায়, রঙ্গীন সুজন সখি, পাপী শত্রু, মৌমাছি, নির্মম, তোমাকে চাই, আনন্দ অশ্রু, স্বজন, বাবা কেনো চাকর, বিয়ের ফুল, অনন্ত ভালবাসা, ভুলো না আমায়, শান্তি চাই, ভালবাসার ঘর, এ বাঁধন যাবে না ছিড়ে, মেঘলা আকাশ, দুই ভাইয়ের যুদ্ধ, হাসন রাজা, ইত্যাদি।

আমির হোসেন বাবু চলচ্চিত্রে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথমবার ১৯৯২ সালে, ‘বেপরোয়া’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক, দ্বিতীয়বার ২০০১ সালে, ‘মেঘলা আকাশ’ ছবিতে শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

নৃত্য পরিচালনার পাশাপাশি অনেকগুলো ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন ছবিতে তিনি নানা রকমের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নায়ক-সহনায়ক-ভিলেন আবার কখনো ক্যাবারে ড্যান্সার। আমির হোসেন বাবু অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে- আবার তোরা মানুষ হ, জিঘাংসা, বাদশা, যাদুর বাঁশি, পাগলা রাজা, দাতা হাতেমতাই, বারুদ, দোস্তী, সুখে থাকো, পেনশন, প্রেমিক, আওয়ারা, লালু মাস্তান, হৃদয়ের বন্ধন, অন্তরে ঝড়, অন্যতম।

ব্যক্তিজীবনে আমির হোসেন বাবু, প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর মৃত্যুর আগেই তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সাবিনা-বাবু দম্পতীর একমাত্র ছেলে শ্রাবণ, বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য নৃত্যশিল্পী, নৃত্যপরিচালক ও অভিনেতা আমির হোসেন বাবু। যিনি তাঁর সময়ে বাংলাদেশের সিনেমার অপরিহার্য্য একজন নৃত্যপরিচালক ছিলেন। গুণী এই নৃত্যপরিচালক আমাদের চলচ্চিত্রের গানকে অনেক সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁর নৃত্যের ছন্দে। চলচ্চিত্রের সবার প্রিয়, সদা হাস্যোজ্বল, খোশ-গল্প প্রিয়, বন্ধুবৎসল একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন আমির হোসেন বাবু। বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পে তাঁর অবদান অবশ্য অবশ্যই স্মরণযোগ্য। আমির হোসেন বাবু প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর মৃত্যুর আগেই তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সাবিনা-বাবু দম্পতির একমাত্র ছেলে শ্রাবণ।

মরহুম চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য নৃত্য শিল্পী,, একাধিক বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত নৃত্য পরিচালক ও অভিনেতা আমীর হোসেন বাবু। আমির হোসেন বাবু বাংলা সিনেমা অপরিহার্য একজন নৃত্য পরিচালক ছিলেন। গুণী এই নৃত্য পরিচালক আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের গান কে সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের নৃত্য শিল্পের তাঁর অবদান অবশ্যই স্মরণযোগ্য। আজ চলচ্চিত্র নৃত্য পরিচালক আমীর হোসেন বাবু ভাই এর মৃত্যুবার্ষিকী। মহানরাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি,আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমির হোসেন বাবুর উল্লেখ যোগ্য চলচ্চিত্র গুলো হলো….

১.অভাগি (১৯৭৫)
২.গুন্ডা (১৯৭৬)
৩.দোস্ত দুশমন (১৯৭৭)
৪.অলঙ্কার (১৯৭৮)
৫.আরাদোনা (১৯৭৯)
৬.জীবন নৌকা (১৯৮১)
৭.লাল কাজল (১৯৮২)
৮.নান্টু ঘটক (১৯৮২)
৯.রজনীগন্ধা (১৯৮২)
১০.নাজমা (১৯৮৩)
১১.ক্ষুধা (১৯৮৪)
১২.নয়নের আলো (১৯৮৪)
১৩.রাজকন্যা টিনা খান (১৯৮৪)
১৪.আওরা (১৯৮৫)
১৫.মিস লোলিতা (১৯৮৫)
১৬.মহা নায়ক (১৯৮৫)
১৭.লালু মাস্তান (১৯৮৭)
১৮.রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত (১৯৮৭)
১৯.আত্মসমর্পণ (১৯৮৭)
২০.স্বামী স্ত্রী (১৯৮৭)
২১.ভেজা চোখ (১৯৮৮)
২২.জীবন ধারা (১৯৮৮)
২৩.যোগাযোগ (১৯৮৮)
২৪.ভাইজান (১৯৮৯)
২৫.ব্যাথার দান (১৯৮৯)
২৬.রাঙ্গা ভাবি (১৯৮৯)
২৭.সত্য মিথ্যা (১৯৮৯)
২৮.আঁখি মিলন (১৯৯০)
২৯.দোলনা (১৯৯০)
৩০.দাঙ্গা (১৯৯১)
৩১.পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১)
৩২.ওচিনা (১৯৯১)
৩৩.শীর্ষ রংবাজ (১৯৯১)
৩৪.বেপোরয়া (১৯৯২)
৩৫.বন্ধু আমার (১৯৯২)
৩৬.চোরের বউ (১৯৯২)
৩৭.অন্ধ বিশ্বাস (১৯৯২)
৩৮.অবুঝ সন্তান (১৯৯৩)
৩৯.কিয়ামত থেকে কিয়ামত (১৯৯৩)
৪০.মৌসুমী (প্রযোজনা ও কোরিওগ্রাফ করা) (১৯৯৩)
৪১.অন্ধ প্রেম (১৯৯৩)
৪২.বিক্ষোভ (১৯৯৪)
৪৩.গোলাপী এখন ঢাকাই (১৯৯৪)
৪৪.সুজন শখি (১৯৯৪)
৪৫.পাপী শত্রু (১৯৯৫)
৪৬.মৌমাছি(১৯৯৬)
৪৭.নির্মম (১৯৯৬)
৪৮.তোমাকে চই (১৯৯৬)
৪৯.আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭)
৫০.বাবা কেনো চাকর (১৯৯৭)
৫১.বিয়ের ফুল (১৯৯৯)
৫২.অনন্ত ভালবাসা (১৯৯৯)
৫৩.মেঘলা আকাশ (২০০১)
৫৪.হাসন রাজা (২০০২)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে