সাধারণ মানুষ থেকে ব্যতিক্রমী ও অনন্য কাজ করে মানুষের মধ্যে অবিনশ্বর হয়ে ওঠে মহামানবগণ। তাদের কর্ম আর ব্যক্তিত্ব পরিস্ফুটিত হয়ে মানব হৃদয়ের মণিকোঠায় যুগ থেকে যুগান্তরের পথে। তারা বেঁচে থাকে নানা গল্প, কবিতা, গান কিংবা স্থাপত্যের শৈলীতে। তবে সাধারণ বস্তুর মধ্যে যদি অসাধারণ ব্যক্তিদের দেখা মিলে, তবে তা যে কারোরই চোখে অনন্য হয়ে ওঠে। এমনি স্থাপত্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (বশেমুরবিপ্রবি) সাজিয়ে তুলেছেন আর্কিটেকচার বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

নিজ বিভাগ থেকে বন্টনকৃত দলভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট ও নতুন বর্ষে আগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থাপত্যের পরিচিত করাতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়। কাঠের গুড়ি দিয়ে পিক্সেল আর্টের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্ণবাদী বৈষম্যের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট স্থপতি ফজলুর রহমান খান ও মাজহারুল ইসলামের মুখাবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি স্থাপত্য নির্মাণে মুখের আকৃতিতে চাম্বল, বাদাম কাঠ, গাব, কাঁচা মেহগনি (সাদা-অসাড়), শিশু কাঠ, শিরিজ কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও চোখের ও ভ্রুর কালো ছাপ ফুটিয়ে তুলতে লোহা কাঠ (সবথেকে গাঢ়) ও পাকা মেহগনি (গাঢ়-সাড়) কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। হালকা সাদা, তার থেকে সাদা গাঢ় সাদা, হালকা কালো, তার থেকে কালো ও গাঢ় কালো- এভাবে কাঠগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। যাতে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনের মুখাবয়বের মধ্যে প্রকৃত চেহারার প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা যায়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ৩০ শিক্ষার্থীর ৫টি দলকে প্রায় ১২’হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে।

নিজ বিভাগের এই কাজে তারা বেশ বেগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে নেলসন ম্যান্ডেলার স্থাপত্য নির্মাতা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আসলে এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। এটা একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জের, ঠিক অন্যদিকে উপভোগ্য। এই প্রথমবারের মতো আমাদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিক্সেল আর্টের মাধ্যমে স্থাপত্যের কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিভাগের উৎসাহ পেলে এমন আরো কাজ করব।এদিকে কাঠের গুড়ির নিপুণ কারুকার্যে মোহিত হয়ে দেখতে আসছেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা খাতুন মিমি। তিনি বলেন, আর্কিটেকচার বিভাগের ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যে অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।

আর্কিটেকচার বিভাগের সভাপতি ড. সাইফুল ইসলাম ইসলাম বলেন, আসলে আমাদের বিভাগে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব কাজ করতে দেওয়া হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যক্রমের কাজ হয় অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় বিষয় ফুটে ওঠে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সাল থেকে বশেমুরবিপ্রবিতে আর্কিটেকচার বিভাগের যাত্রা শুরু। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন শিল্পকর্মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে আসছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে