প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কট্টর বিরোধীদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রাখতেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, নাসিম ভাইয়ের মত একজন নেতার চলে যাওয়ায় শুধু আমাদের দলের জন্য নয়, দেশের রাজনীতি জন্যও ক্ষতি হয়েছে। তার অন্যতম গুণ ছিলো অন্য দলের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখা। একেবারে কট্টর বিরোধীদের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক রাখতেন। কিন্তু প্রতিবাদ করতে কখনো দ্বিধা করতেন না।

আজ মঙ্গলবার(১৫’ই জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত মোহাম্মদ নাসিমের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মোহাম্মদ নাসিম বিরোধীদের সুসম্পর্ক রাখতেন, তাদের বক্তব্যের প্রতিবাদও করতেন। আমি মনে করি রাজনীতির মাঠে মতদ্বৈধতা থাকবে, মতপার্থক্য হবে, রাজনৈতিক বির্তক থাকবে। এক দলের সঙ্গে আরেক দলের সম্পর্ক থাকবে না, এটা উচিত নয়। বঙ্গবন্ধু যখন রাজনীতি করতেন, কট্টর বিরোধীদের সঙ্গে শুধু সুসম্পর্ক নয়, বিরোধীদের দেখভালও করতেন। মোহাম্মদ নাসিম ভাইও সে কাজটি করতেন। তিনি বলেন, ১৪ দলের সমন্বয়ক হিসেবে ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ১৪ দলকে আওয়ামী লীগের পাশে রাখা অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছেন পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সপক্ষের পেশাজীবী সংগঠনে সুসংগঠিত করে আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড় করাতে ভূমিকা রেখেছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, মোহাম্মদ নাসিম মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি করোনার মধ্যে মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। মোহাম্মদ নাসিমের মত একজন নেতার হঠাৎ করে চলে যাওয়া আমাদের দলের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি। তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ নাসিম পিতার পুত্র হিসেবে নেতা হননি। ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান হিসেবে তিনি নেতা হয়নি। তিনি কর্মী থেকে নেতা হয়েছেন। ছাত্রলীগ করেছেন, ছাত্র রাজনীতি করেছেন। দলের পক্ষে আদর্শের পক্ষে সংগ্রাম করে তিনি তরুণ বয়সে কারাগারে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতারা হত্যাকাণ্ডের পর অনেক জেল-জুলুম, নির্যাতন তাকে সহ্য করতে হয়েছে।

মোহাম্মদ নাসিমের অবদানের তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুহীন আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে মোহাম্মদ নাসিমের অসামান্য অবদান ছিলো। যখন তিনি জাতীয় নেতার আসনে আসিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, তখন তিনি অনুজদের প্রতিও ভালো আচরণ করতেন। তিনি সমস্ত নেতাকর্মীকে আপন করে নিতেন এ গুণ সব নেতার মধ্যে থাকে না। অনুজদের সম্মান করে কথা বলতেন। মোহাম্মদ নাসিম অনেক বড় নেতা ছিলেন, তারচেয়েও বড় কথা তিনি তার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সন্তান ছিলেন। কিন্তু তার আচার আচরণে কেউ বলতে পারবে না এত বড় নেতার ছেলে ছিলেন, বা তিনি এত বড় নেতা, তার আচার আচরণে এটা কখনও ফুটে উঠতো না। সবাইকে আপন করে নেয়ার অসামান্য গুণ তার মধ্যে ছিলো। আমি তার চে বয়সে অনেক ছোট,  আমাকেও তিনি আপনি করে বলতেন। কর্মীদের খোঁজ-খবর নেয়া একজন নেতার গুণ থাকা দরকার, এটা তার মধ্যে ছিলো, তিনি সবার খোঁজ-খবর নিতেন।

সংগঠনের সহ-সভাপতি কন্ঠ শিল্পী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানার পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী  ডা. মুরাদ হাসান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র ইঞ্জিনিয়ার তানভীর শাকিল জয় এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ,আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, কামাল চৌধুরী, এম এ করিম, যুবলীগ নেতা মানিক লাল ঘোষ, অভিনেত্রী তারিন জাহান, শাহনুর সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রনি, সুজন হালদার, রোকন উদ্দিন পাঠান প্রমুখ।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে