বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের খেতাব বাতিলের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।বুধবার সকালে গাজীপুরের চন্দ্রায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার দালিলিক প্রমাণে খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমানসহ আরো অনেকের নাম এসেছে। এ বিষয়ে গঠিত উপকমিটি আগামী সভায় বঙ্গবন্ধু হত্যায় কার কি ভূমিকা ছিল, তার প্রমাণ পেশ করবে। যাচাই-বাছাই শেষে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের সম্মানসূচক খেতাব বাতিল হবে।এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনের সনদ, সম্মাননা বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীর উত্তম খেতাব দেয়া হয়। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর তার রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকার) ৭২তম সভায় এন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাবও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, জিয়াউর রহমানসহ এই পাঁচজন এবং তাদের পরিবার মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার ষড়যন্ত্রে জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে বরাবরই অভিযোগ করা হয়। তবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি।

তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে