থিসিস জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং ওমর ফারুকের পদাবনতি হয়েছে। একই অপরাধে আরেক শিক্ষক মাহফুজলুল হক মারজান পদোন্নতি পাবেন না দুই বছর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তাদের সুপারিশেই সিন্ডিকেট সভায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমানকে সহকারী অধ্যাপক আর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুককে প্রভাষক করা হয়েছে। আর মাহফুজুল হক মারজান বিদেশে থাকায়, দেশে ফেরার পর ২ বছর কোনো পদোন্নতি পাবেন না।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া ও মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘আ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: আ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শীর্ষক আট পৃষ্ঠার একটি নিবন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নিজস্ব জার্নাল সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউয়ে প্রকাশিত হয়। তখন অভিযোগ ওঠে, ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার মতো হুবহু নকল করেছেন তারা৷
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানায় ওই গ্রন্থের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস৷ নিবন্ধটিতে ফুকো ছাড়াও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিন্তক এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের পাতার পর পাতা হুবহু কপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তখনকার উপ-উপাচার্য নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এর প্রতিবেদন জমা পড়ে ২০১৯ সালে। গত বছর গঠন হয় ট্রাইবুনাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিয়া-মারজানের চৌর্যবৃত্তির অভিযোগটির সত্যতা মিলেছে। তবে কমিটি কোনো শাস্তির সুপারিশ করেনি। সামিয়া-মারজানের শাস্তি নির্ধারণের জন্য গত বছরের অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ইনক্রিমেন্ট কাটার মতো লঘু শাস্তির সুপারিশ করলেও সিন্ডিকেট তা নাকচ করে দিয়েছে।
এদিকে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ২০১৮ সালে সিন্ডিকেটের এক সভা থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুকের ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু তখন তাকে একাডেমিক কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। তার শাস্তি নির্ধারণের জন্য গত বছরের অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী ও সিন্ডিকেট সদস্য এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিনকে চেয়ারম্যান করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তাকে পদাবনতি দিয়ে প্রভাষক করে দেওয়ার সুপারিশ করে৷ সেই সুপারিশই সিন্ডিকেট বহাল রেখেছে। তবে এই সাজার বিষয়ে এখনও কিছু জানেন না ওমর ফারুক।
আর আদালতে রিট আবেদনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সামিয়া রহমান।শিক্ষাবিদেরা বলছেন, শিক্ষকের থিসিস নকল করা বড় অপরাধ। এতে শিক্ষকতা করার নৈতিক ভিত্তি থাকে না।এ ধরনের অপরাধে সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আহ্বানও জানান শিক্ষাবিদেরা।
তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি



























