সংক্রমণ রুখতে উত্তর কোরিয়া (North Korea) করোনা রোগীদের গুলি করে মারছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এবার তার স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনার কমান্ডার রবার্ট আব্রাহাম।

খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাট্রেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ আয়োজিত একটি অনলাইন কনফারেন্সে অংশ নেন আব্রাহাম। তিনি বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এক মর্মান্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করছেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির চিকিৎসার বদলে দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর জন্য একটি বিশেষ বাহিনীও তৈরি করেছে কিমের দেশ। তারাই করোনা আক্রান্তকে গুলি করে হত্যার দায়িত্বে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্যাট্রেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনলাইন কনফারেন্সে অংশ নিয়েছিলেন আব্রাহাম। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে পাশবিক পদক্ষেপ নিয়েছে কিম জং উনের প্রশাসন। সেখানে এই মারণ মহামারীতে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার বদলে তাঁর খোঁজ পাওয়ামাত্রই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এর জন্য একটি বিশেষ বাহিনীও গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিন সীমান্তের এক কিংবা দু কিলোমিটার আগে নতুন বাফার জোন তৈরি করেছে উত্তর কোরিয়া। ফলে সীমান্ত দিয়ে চোরা পথে উত্তর কোরিয়ায় ঢোকার রাস্তা বন্ধ হয়েছে। তাই জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়েছে।

জানুয়ারি মাসের শুরুতেই সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য চিন সীমান্ত বন্ধ করে দেয় পিয়ংইয়ং (Pyongyang)। এমনকী জুলাই মাসে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও করোনা আক্রান্তের কথা জানানো হয়নি। এর ফলে অবাক হয়েছে গোটা বিশ্ব। সব দেশেই যখন একজন হলেও করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে তখন উত্তর কোরিয়ার এই নজির রহস্য বাড়াচ্ছিল। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্তব্যরত মার্কিন সেনার কমান্ডার রবার্ট আব্রাহাম তা উদঘাটন করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশ উত্তর কোরিয়া। তাদের একমাত্র সহযোগী দেশ প্রতিবেশী চীন। সেদেশ থেকেই প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশ সামগ্রী আমদানি করে পিয়ংইয়ং। কিন্তু করোনা ঠেকাতে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই চীন সীমান্ত বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া। জুন মাসে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলেও সেদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমে ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি চীন সীমান্তের ২ কিলোমিটার আগে নতুন বাফার জোন তৈরি করা হয়। এর ফলে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে জিনিসপত্রের দামে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে