চীনের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো হংকংয়ে। ব্রিটিশ শাসন অবসানের ২৩তম বার্ষিকীতে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে ৭ জনের বিরুদ্ধে। আটক হয়েছেন অন্তত ২শ জন। এদিকে, নতুন আইন হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের স্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব। এছাড়া আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং বেশ কটি মানবাধিকার সংগঠন।

ব্রিটিশ শাসন অবসানের ২৩তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বুধবার কসওয়ে বে এলাকায় জড়ো হন কয়েক হাজার হংকংবাসী। সমাবেশে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন তারা।

করোনা মহামারির কারণে ৫০’জনের বেশি জমায়েতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, পতাকা, ব্যানার প্রদর্শন ও স্লোগান দিলে সতর্ক করে হংকং পুলিশ। পরে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বেশ কজনকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। এক নারী বিক্ষোভকারী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কাছে আমরা অসহায়। গণতন্ত্রণের কথা বললেই আমাদের গ্রেপ্তার করতে পারবে। কিন্তু ভয় পেলে চলবে না। স্বাধীনতা কখনোই নিজে থেকে আসবে না। এর জন্য লড়াই করতে হবে। এক বিক্ষোভকারী বলেন, স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করতেই এই আইন করা হয়েছে। তারা কখনোই আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ, আমাদের ভোটে তারা নির্বাচিত হয় না। তাই আইনের মাধ্যমে যে স্বৈরশাসন হংকংয়ের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, তা আমরা মানি না।

চীনের পক্ষে সাফাই গেয়ে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে, কাউকেই গ্রেপ্তার করা হবে না। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বলেন, আইন মানলে কাউকেই গ্রেপ্তার বা কারো বিরুদ্ধে মামলা করা হবে না। শাস্তি দিতে নয় বরং বিচ্ছিন্নতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে এই আইন। জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। হংকংয়ের স্বাধীনতা আইনবিরোধী। এদিকে, ওই আইনের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানায় যুক্তরাজ্যসহ বেশ কটি দেশ। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাসের পর থেকে আমরা সতর্কভাবে তা মূল্যায়ণ করছি। এটি হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর জনগণের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে হওয়া যৌথ ঘোষণারও মারাত্মক লঙ্ঘন। মঙ্গলবার চীনের পার্লামেন্টে পাস হয় জাতীয় নিরাপত্তা আইন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্বাক্ষরে তা আইনে পরিণত হয়। নতুন আইন অনুযায়ী, সরকারি কোনো সম্পত্তি বিনষ্ট করলেও তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বনিম্ন তিন বছর আর সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে