নাজমুল আহসান তুহিন, ইউরোপ ব্যুরো প্রধান।। ইতালী দীর্ঘ লক ডাউনের পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। করোনা মহামারিতে বিধ্বস্ত ইতলী আবার ঘুড়ে দাঁড়াতে শুরু করেছে। গত ৩’রা জুন থেকে সকল সেক্টর থেকে তুলে নেয়া নিষেধাজ্ঞার পর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কাজ কর্ম শুরু হয়েছে।

লক ডাউন উঠে যাওয়ার পর খুলে দেয়া হয়েছে ইউরোপের সাথে সীমান্ত গুলো, চালু করা হয়েছে আন্ত ইউরোপীয় বিমান চলাচল।আসতে শুরু করেছে পর্যটক। দর্শনীয় স্থান গুলো ফিরে পেতে শুরু করেছে চিরচেনা পরিচিতি।

আমাদের ইউরোপ ব্যুরো প্রধান নাজমুল আহসান তুহিন ইতালীর মিলান, বেরগামো, ব্রেসসা, ক্রেমোনাসহ ভেনিসের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পর্যবেক্ষন করে জানান, আবার মুখরিত হচ্ছে ইতালীর সকল দর্শনীয় স্থানগুলো। সাগর কন্যা খ্যাত ভাসমান শহর ভেনিসে আবার ভাসতে শুরু করেছে পর্যটকদেরনিয়ে গোন্দলা(নৌকা)। রাজধানী রোমের ক্লোসেও, ভ্যাটিকানসিটি, ফোন্তানাত্রেবি, পিয়াচ্ছা স্পানিয়া, পিয়াচ্ছা, ভেনিসিয়াসহ সকল দর্শনীয় স্থানে জড়ো হতে শুরু করেছে দর্শনার্থীর ঢল। মুখ থুবরে পড়া অর্থনীতিতে যেন আবার প্রানের সঞ্চার হতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। সাপ্তাহিক বাজার গুলোতে যেন বসতে শুরু করছে দোকানীদের পাসরা। রেষ্টুরেন্টের মালিকরা আবার ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন রান্নাঘর সামলাতে, ওয়েটাররা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের টেবিল সাজাতে। আর আবাসিক হোটেলের কামেরিয়েরারা ব্যস্ত হয়ে উঠছে সাদা চাদরের বিছানা ভাজ করতে।

আন্তর্জাতিক রুটে শুরু হয়েছে বিমান চলাচল। করোনা নিস্তেজ হয়ে পড়ায় সরকার প্রধানের মাথা থেকে নেমে যাচ্ছে যেন চিন্তার ছাপ। ক্যাবিনট সদস্যরা যেন কিছুটা হলেও হাফ ছেড়ে বাঁচছে সব কিছু সামলাতে। হাসপাতালের ডাক্তার নার্স-আয়াগন যে কিছুটা শস্তির নি:শ্বাস ফেলছে লাশের পর লাশের স্তুপ না থাকার কারনে। কবরস্থানগুলো যেন কিছুটা নি:শ্চিন্ত হচ্ছে অতিরিক্ত লাশের ভার বহন না করার কারনে। উত্তর ইতালীর সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারী কবলিত ব্রেসস্সা, ক্রেমোনা, বেরগামো,মিলান ও ভেনেসিয়া এলাকার মানুষের মাঝে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরের বাহিরে আসতে শুরু করেছে। পার্কে বাচ্চাদের খেলতে দিচ্ছে, সুপার সপ কিংবা সাপ্তাহিক বাজারে ঘুরে কেনাকাটা করছে। লাঞ্ছ কিংবা ডিনারে মিলিত হচ্ছে রেস্টুরেন্টে টেবিলে। এক শহর থেকে অন্য শহরে আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধুদের সাথে মিলিত হচ্ছে কুশল বিনিময় করতে কিংবা কোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে। ধর্মীয় উপশনালয় গুলোতে মিলিত হচ্ছে ধর্মপ্রান লোকজন। প্রতিটি মহল্লায় মসজিদ গুলোতে মুয়াজ্জিনের আজান শেষে জুম্মা কিংবা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতে শরিক হচ্ছে ধর্মপ্রান মুসলমানরা।

সকল ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে সরকারী বিধি-বিধান, সামাজিক দুরত্ব বা শারিরীক দুরত্ব। নিয়ম তান্ত্রিকভাবে চলতে থাকলে হয়ত অচিরেই ইতালী তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। আবার সব রকম বাঁধা অতিক্রম করে স্বয়ংসম্পূর্ন হবে ইতালীর অর্থনীতি। অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এটাই আশা সকলের।

ইতালী নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে