ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই ঘূর্ণিঝড় প্রবণ অঞ্চল বাংলাদেশ। ১৯৬০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশে মোট ৩৩টি ছোট-বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। সত্তরের ঝড় কেড়ে নিয়েছিলো অন্তত ৫ লাখ মানুষের প্রাণ। একানব্বইয়ের জলোচ্ছ্বাসে মৃত্যু হয় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের। ক্ষয়ক্ষতির দিকে থেকে এ দুটি ঘূর্ণিঝড় প্রলয়ঙ্করী হিসেবে পরিচিত সারা বিশ্বে।

ঘূর্ণিঝড় ভোলা ।। এ পর্যন্ত সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঝড় ছিলো এটি। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর এর কবলে পড়ে অন্তত ৩৬ লাখ মানুষ। প্রাণ হারান ৫ লাখের বেশি। বিধ্বস্ত হয় চার লাখের বেশি ঘর-বাড়ি ও সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২২ কিলোমিটার।

ঘূর্ণিঝড় ম্যারি এন ।। এর ২১ বছর পর ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল হানা দেয় ঘূর্ণিঝড় ম্যারি এন। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা এ ঝড়ে ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস কেড়ে নেয় ১ লাখ ৩৮ হাজার প্রাণ। নিঃস্ব হয় প্রায় এক কোটি মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় সিডর।। এরপর ঘূর্ণিঝড় সিডর হানা দেয় ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর। মারা যায় ৩ হাজার ৩শ ৪৭ জন। নিখোঁজ অন্তত এক হাজার। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২০ লাখ পরিবার। উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলের ৩০ জেলায় ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে এই ঝড়। এতে নষ্ট হয় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

ঘূর্ণিঝড় আইলা।। এর দুই বছর পর আসে আইলা। ২০০৯ সালের ২৫ মে, উপকূলীয় অঞ্চলে এর আঘাতে প্রাণ হারান ১৯০ জন। বিধ্বস্ত হয় ৩০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি, ভেসে যায় মাছের ঘের ও জমির ফসল।

ঘূর্ণিঝড় ফণী ও বুলবুল।। ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল ফণী ও একই বছরের ৬ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতে জোড়ালো আঘাত হানলেও বাংলাদেশে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

এছাড়া ২০০৮ সালে নার্গিস, ২০১৩ সালে মহাসেন, ২০১৫ সালে কোমেন, ২০১৬ সালে রোয়ানু ও ২০১৭ সালে ঘূর্ণিঝড় মোরাসহ আরো কিছু ঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানলেও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে