

এ যাত্রায় প্রথম মাসেই বিকন বাংলাদেশের কাছে আসে ১৯ লক্ষাধিক টাকা। ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে বিকন বাংলাদেশ পৌঁছে যায় সিরাজগঞ্জ থেকে নেত্রকোনা, নারায়নগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জ, গ্রাম থেকে শহর এমনকি দুর্গম চর, নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ থেকে শুরু করেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বিধবা পল্লী থেকে শুরু করে প্রান্তিক খামারি- বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ৮ টি বিভাগের ৪৫টি স্থানে ১২,৫০০ মানুষকে সরাসরি এবং ২৭,.৫০০ মানুষকে আংশিকভাবে অর্থায়ন করেছে বিকন বাংলাদেশ। ভলান্টিয়ার গ্রুপের হাতহোয়েছেপৌঁছে গিয়েছে ৭০০০ এর ও বেশি খাবারের প্যাকেট। শুধু রেশন ই নয়, বাচ্চাদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে আর্ট-ক্র্যাফট সামগ্রী, যেন এই দুর্বিপাক তাদের মনস্তত্বকে আঘাত করতে না পারে। “পথপ্রাণীদের আহার সেবা” উদ্যোগ নেয়া মা-মেয়ের মাধ্যমে বিকন বাংলাদেশ রাস্তার প্রাণীদের কাছেও উপস্থিত হয়েছে। বিকন বাংলাদেশ ফান্ড করছে তরুণ উদ্ভাবকদেরও যারা করোনার পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেস শিল্ডের মত উদ্ভাবন নিয়ে নিজেরাই এগিয়ে এসেছে। সামনের দিনগুলোতে বিকন বাংলাদেশ পৌঁছে যেতে চায়, বৃদ্ধাশ্রম, যৌনকর্মী, ট্রান্সজেন্ডার, মুচি সম্প্রদায়, সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক আদিবাসী সহ এমন মানুষদের কাছে যারা সোশ্যাল সেফটি নেটের বাইরেই অবস্থান করেন।
বিকন বাংলাদেশ এর কোর টিম, ভলান্টিয়ার এবং ডোনার – সবার কাজের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রস্ফুটিত করার তাগিদ ছিল। বিকন বাংলাদেশ আসলে শুধুমাত্র আরেকটি ফান্ড রেইজিং প্ল্যাটফর্ম হতে চায় না। বিকন বাংলাদেশ তার কাজের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একটি যুগোপযুগী বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দিকে তাকালে বঙ্গবন্ধুর পাশে অবিচ্ছেদ্যভাবে যার ছবি ভেসে উঠে সেই তাজউদ্দীন আহমদ এর একটি উক্তি আমরা হৃদয়ে ধারণ করি। বঙ্গতাজ একদা বলেছিলেন “আমি দেশের জন্য এমনভাবে কাজ করবো যেন দেশের ইতিহাস লেখার সময় সবাই এদেশটাকেই খুঁজে পায়, কিন্তু আমাকে হারিয়ে ফেলে।”
বিকন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, আমাদের সকল কাজের পেছনেই আমরা বাংলাদেশকে প্রতিফলিত করতে চাই। যে কারণে বিকন বাংলাদেশের ট্যাগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে “স্পিরিট অফ ‘৭১”। ২০টির ও অধিক ভলান্টিয়ার গ্রুপের সাথে কাজ করার সময় বিকন বাংলাদেশ মাথায় রেখেছে, শুধু ফান্ড করলেই হবে না, পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে তরুণদের সামনে। তাই বিকন বাংলাদেশের ফান্ডে আবেদন থেকে শুরু করে ডকুমেন্টেশন – এই অভিজ্ঞতা যেসব তরুণের হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, ডোনার ফান্ডের জন্য আবেদন, বাজেটিং এসব দক্ষতা অর্জন করেছেন। এই গ্রুপগুলোর কাজের সমন্বয় এবং ট্রান্সপারেন্সি বজায় রাখতে প্রোজেক্ট কো-অরডিনেটর হিসেবে কাজ করেছে দীপ্ত সাহা, সালেহ রোকন, নাদিয়া আফরিন, মায়িশা আহমেদ নন্দিতা এবং ক্রিয়েটিভ লিড হিসেবে রয়েছেন ফারাহ খন্দকার।
মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি দিককেও বিকন বাংলাদেশ ধারণ করতে চেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জনমত গঠন, অর্থসহায়তা প্রদান এবং মুক্তিযুদ্ধের বৈশ্বিক আবেদন তৈরিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিকন বাংলাদেশ যখন স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করা শুরু করে, সবার আগে এগিয়ে আসেন প্রবাসী বাংলদেশীরা। তাঁদের এই অব্যাহত সমর্থন বিকন বাংলাদেশ স্মরণ করতে চায় কৃতজ্ঞতাভরে।শেষ করার আগে, বিকন বাংলাদেশ এর সর্বশেষ উদ্যোগ এর কথা না বললেই নয়। কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হচ্ছেন আমাদের সম্মানিত ডাক্তারগণ। বিকন বাংলাদেশ তাদের জন্য কিছু করতে চায়। ইতোমধ্যে সিলেটে করোনায় নিহত ড. মইনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সম্মান জানাতে সিলেটে মেডিক্যালে পৌঁছে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা সামগ্রী। বিকন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, পুরো জাতির এগিয়ে আসা উচিত সময়ের এই মহানায়কদের সুরক্ষায়। তাই তাদের যেকোন প্রয়োজন বিকন বাংলাদেশ সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
লেখকঃ সাদিয়া রশ্নি সূচনা
শিক্ষার্থী, হোম ইকোনোমিক্স কলেজ, ঢাকা।




























