ঝকঝকে, তকতকে, মেদহীন শরীর, নির্ভার অনুভূতি কার না ভালো লাগে? তাহলে মনটাকে বছরের শুরুতেই বেঁধে ফেলুন। মন নিয়ন্ত্রণে এলে রসনাও চলে আসবে নিয়মের মধ্যে। আর রসনাকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে প্রয়োজন নিয়ম করে কার্যকর ডায়েট। এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে সেই ডায়েটের সুলুক সন্ধান। অনুসরণ করলে আখেরে লাভ আপনারই।

অ্যাটকিনস ডায়েট : রবার্ট অ্যাটকিনস ১৯৫৮ সালে আমেরিকার মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েনশের রিসার্চ ‘ওয়েট রিডাকশন’ জার্নালটি পড়েছিলেন। ডঃ অ্যালর্ফাডের লেখাটি তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলো।এবং নিজের শরীরের মেদ ঝরানোর জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মেদমুক্ত হন। তারপরই এই সমস্ত ডায়েট মেথড কে একসঙ্গে করে ১৯৭২ সালে প্রথম একটি বই বের করেন ‘অ্যাটকিনস ডায়েট রেভলিউশন’ নামে।পরবর্তীতে ২০০২ সালে আরও একটি বই প্রকাশ করেন।

অ্যাটকিনস ডায়েট কী : খাদ্যের মধ্যে প্রথমেই কার্বোহাইড্রেটের পরিমান বেঁধে দেয়া হয়। কারণ খাবারে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে ফেললে গ্লুকোজ ও ইনসুলিন  নিয়ন্ত্রনে থাকে। ফলে শুধু শরীরই সুগঠিত হয় না ডায়বেটিস, হৃদযন্ত্রের যে কোন সমস্যা ছাড়াও শরীরের আরও অনেক রোগ প্রতিরোধ হয়। এই ডায়েটে প্রোটিন সুগার ও ফাইবরিযুক্ত খাবারও খাওয়া যেতে পারে। তবে কিছু ফল ও সবুজ সব্জী খেতে হবে।পানির পরিমান বাড়াতে হবে। এই ডায়েট শরীরকে বার্নিং মেশিনের মতো করে তোলে। জমে থাকা ফ্যাটকে সহজেই গলিয়ে ফেলে এই ডায়েট সঙ্গে সামান্য কিছু ব্যায়াম করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

কী কী খাবেন : অ্যাটকিনসের ডায়েটের চারটি ধাপ আছে।ইচ্ছে মতো খাবার খাওয়া যেতে পারে। তবে খালি পেটে থাকা যাবে না্। দু’ঘন্টা পরপর খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

প্রথম ধাপ : এই ধাপ আপনাকে কম করে হলেও দুই সপ্তাহ মেনে চলতে হবে।ঠিকঠাক মেনে চললে এতে আপনি সাত কেজি পর্য্ন্ত ওজন কমাতে পারবেন।
•    যে কোন ধরণের মাছ খেতে পারবেন তবে সেটা টাটকা হতে হবে স্টোর করা কোন মাছ খেতে পারবেন না। চিকেনের ক্ষেত্রেও তাই।
•    সেদ্ধ ডিম খেতে পারবেন।
•    সামান্য সব্জী খেতে পারেন। তবে বার্গার খেতে ইচ্ছে হলে ভেজ বার্গার খেতে হবে।
•    সবুজ শাকপাতা,মাশরুম, শশা, টমেটো, বিট, গাজর দিয়ে সালাদ খেতে পারবেন। সালাদের উপর ড্রেসিং করতে পারেন কিন্তু চিনি বা মধু জাতীয় কোন  মিষ্টি ব্যবহার করা যাবে না।
•    দুধ খাবেন দিনে দুই গ্লাস।
•    মাখন খেতে পারেন। খাবারে সানফ্লাওয়ার, সয়া, অলিভঅয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যান্য তেল থেকে দূরে থাকবেন।
•    মিষ্টি আর অ্যালকোহল একেবারে বন্ধ এই ধাপে।

দ্বিতীয় ধাপ : এ টি ছয় সপ্তাহ করতে হবে।
•   বেশী পেরিমানে বাদাম খেতে হবে। সানফ্লাওয়ার সিডস, পাইননাট, আমন্ড, ব্রাজিলনাট, নারিকেল, কুমড়া, কুমড়াদানা, এগুলো খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
•    স্ট্রবেরি,নাসপাতি জাতীয় ফল খেতে হবে। অন্য কোন ফল একেবারেই চলবে না।
•     চিজ খেতে পারেন।
•    মটরডাল, দানা বা বড় মটর সেদ্ধ করে খেতে হবে।
•    লেবুর শরবত দিনে এক গ্লাস মাস্ট।
•    টমেটোর জুসও খfদ্য তালিকায় থাকবে।

তৃতীয় ধাপ : এই ধাপের প্রধান খাদ্য ফল। শরীরে খাদ্যের পরিমান ঠিক রাখার জন্য প্রচুর পরিমানে ফল খেতে হবে। শরীর ঝরঝরে না হওয়া পর্য্ন্ত এই ধাপ মেনে চলুন।
•    নাসপাতি, স্টবেরি, কুমড়া এই ধাপে বাদ। আপেল, কলা, পেয়ারা, আঙ্গুর, কমলা লেবু, আম, তরমুজ এই ধাপে খেতে পারেন।
•   এই ধাপে শরীরে স্টার্চের পরিমান বাড়ানোর জন্য স্টার্চযুক্ত সব্জী যেমন, আলু, মিষ্টি আলু, বিট, গাজর, মুলা, ভুট্টা খেতে হবে।সঙ্গে থাকবে গম, লাল চালের ভাত।
•    দুধ খেতে হবে দিনে এক গ্লাস।

চতুর্থ ধাপ : ১ম এবং ২য় ধাপ হলো এই ডায়েটের প্রধান অংশ।এই অংশে এলেই আপনি বুঝতে পারবেন কতটা মেদ আপনার শরীর থেকে ঝরে গিয়ে আপনি কতটুকু ঝরঝরে হয়েছেন। তাই যা যা খেয়েছেন এতদিন তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেতে পারেন এই ধাপে। এবং আস্তে আস্তে নিজের পছন্দের খাবারও ফিরিয়ে আনতে পারেন মেদহীন জীবনে।

লাইফস্টাইল , বিডি টাইমস নিউজ ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে