চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন লকডাউনে। পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনোভাবে বিধিনিষেধের আওতায় বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
বর্তমানে পৃথিবীর জনসংখ্যা ৭৮০ কোটি। এরমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ করোনা ভাইরাস বিধি-নিষেধের কারণে এখন গৃহবন্দি। কোথাও কোথাও অফিস করতে হচ্ছে বাড়ি থেকে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্বের অন্তত ৮২টি দেশ সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে। যার ফলে প্রায় তিনশ কোটি মানুষ ঘরেই আটকে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য সরকার, ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাসিন্দাদের। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, আর লকডাউন করার পরিস্থিতি আসবে না।করোনায় এখন ইউরোপের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। ইতালিতে প্রতিদিন শত শত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮ হাজার। স্পেনের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশ দুটি পুরোপুরি লকডাউন।
ইরানে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দুই সহস্রাধিক মানুষ। লকডাউনের মেয়াদ দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি করেছে মালয়েশিয়া। নেপালও লকডাউন। ভাইরাসটি থেকে রেহাই পায়নি আফ্রিকাও। মহাদেশটির বেশ কিছু দেশে করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইসরায়ালে নাগরিকদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফ্রান্স আর জার্মানির মতো দেশগুলোতেও পালা দিয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। জার্মানির কিছু এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউন করা হয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেখানে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। অস্ট্রেলিয়ায় অপ্রয়োজনীয় সেবা ও জনসমাগম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্লাব, জিম, সিনেমা হল ও ধর্মীয় উপাসনালয় বন্ধ থাকবে। ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার সকল রেস্টুরেন্ট, বার, ক্যাফে, দোকান ও পার্ক বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জোটের বাইরের দেশের জন্য সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নিজেদের সীমান্ত সিল করেছে কিউবা ও বলিভিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। সৌদিতেও চলছে জরুরি অবস্থা। সংক্রমণ ঠেকাতে প্যারিসে মেট্রো ও রেল চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন করা হয়েছে যুক্তরাজ্য। জরুরি নয় এমন পণ্যের দোকান-পাট বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং দুইজনের বেশি মানুষ এক সাথে জমায়েত হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশবাসীকে রাস্তায় বের না হওয়ার জন্য কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে কানাডা।
ভারতে ঘরবন্দি প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ। যা গোটা বিশ্বে গৃহবন্দী মানুষের সিংহভাগ। গত ২৪ মার্চ ২১ দিনের জন্য দেশটিতে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ দেশটিকে এখন মানুষের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছিল যেখানে, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেই চীনের জয় হয়েছে। করোনা মোকাবিলা করে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটি। হুবেই প্রদেশ থেকে তুলে নেয়া হয়েছে বিধিনিষেধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। তবে উহান শহর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হবে আগামী ৮ এপ্রিল।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























