বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ও সিভিল এভিয়েশনের কন্ট্রোল টাওয়ারের ভুলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটতে যাচ্ছিল দুই উড়োজাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষ। বিমানবন্দরের রানওয়েতে যখন একটি উড়োজাহাজ অবতরণ করছিল ঠিক একই সময়ে ওই রানওয়েতে অপর একটি উড়োজাহাজ টেকঅফ (উড্ডয়ন) করছিল।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালের ঘটনা এটি। এদিন সকালে কক্সবাজার যাচ্ছিল বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইট। বোয়িং-৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজের ওই ফ্লাইটে পাইলট হিসেবে ছিলেন ক্যাপ্টেন মুনতাসির ও ফাস্ট অফিসার তানজিন।

টাওয়ার সূত্রে জানা গেছে, কুয়াশার কারণে আগ থেকে উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা ছিল বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটির ওপর। শুধু বিদেশ থেকে যেসব ফ্লাইট আসছিল তাদের ল্যান্ড করার অনুমতি ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কন্ট্রোল টাওয়ারের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সকালের দিকে বাইর থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি চায় টাওয়ারের কাছে। তখন কুয়াশার কারণে রানওয়ে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। তারপরও তারা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটকে ল্যান্ড করার অনুমতি দেন। তারা মনে করছিলেন রানওয়ে তখন ক্লিয়ার, কোনো উড়োজাহাজ নেই। কিন্তু ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি যখন রানওয়ে ছুঁইছুঁই করছিল তখনই টাওয়ারে ভেসে ওঠে রানওয়েতে দৌড়ানো অবস্থায় থাকা বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটটির টেকঅপ। তাৎক্ষণিকভাবে তারা ইউএস-বাংলার পাইলটকে ল্যান্ড না করে ব্যাক (ফিরে যাওয়া) করার জন্য জানান। আর এতেই রক্ষা পায় দুই উড়োজাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষ। টাওয়ারের ওই কর্মকর্তার মতে, যদি কোনো কারণে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি ব্যাক করার সুযোগ না পেত তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত শাহজালালে। উড়োজাহাজ দুটি রক্ষা দূরের কথা কোনো যাত্রীই প্রাণে বাঁচার সুযোগ পেত না।

টাওয়ার সূত্রে আরও জানা গেছে, বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটটি বেশ কয়েকবার টেকঅপের (উড্ডয়নের) পারমিশন চেয়েছিল। কিন্তু তাদের পারমিশন হোল্ড (বন্ধ) ছিল। তারপরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা কিভাবে রানওয়েতে গিয়েছে এবং টেকঅপের জন্য রানিং (দৌড়ানো) শুরু করল এটা তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, টাওয়ারের পারমিশন নিয়েই তারা মুভ (দৌড়ানো) শুরু করেন। তারা যখন পূর্ণমাত্রার উড্ডয়নের অবস্থায় তখনই আকাশে উড়োজাহাজ দেখতে পান। ওই মুহূর্তে তাদের কিছুই করার ছিল না। বিমানের পাইলটদের সংগঠন বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সভাপতি ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, টাওয়ার-পাইলটের ভুল সিগনালের কারণে নেপালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল ইউএস-বাংলার একটি এয়ারলাইন্স। পাইলটদের ইংরেজি অনেক দেশের টাওয়ার বুঝতে পারেন না। ডান-বাম বোঝেন না। শেষ মুহূর্তে এসে সরি… সরি… (মাফ করবেন) বলেন। তিনি বলেন, প্রায় সময় টাওয়ার থেকে পাইলটদের অস্পষ্ট ও ভুল তথ্য দেয়া হয়। অশুদ্ধ ইংরেজিতে তারা কথা বলেন। তিনি বলেন, যদি কোনো কারণে পাইলট, টাওয়ারের কথা বুঝতে না পারেন তাহলে টাওয়ারের উচিত ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়া। ৭৩৭-এর মতো এতবড় একটি উড়োজাহাজ টাওয়ারে দেখা গেল না কেন এটা তদন্ত করে খুঁজে বের করা উচিত। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। না হলে এ রকম ঘটনা আরও ঘটতে পারে- এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। সিভিল এভিয়েশনের ফ্লাইট সেফটি বিভাগের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ তাদের কাছে আছে। অভিযোগটি নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছেন। বিমানের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে সোমবার পর্যন্ত এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দুই পাইলট সোমবারও ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। এ বিষয়ে জানতে বিমানের ওই ফ্লাইটের পাইলট ক্যাপ্টেন মুনতাসিরের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ কার হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে