নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হচ্ছে গাইড বই কিনতে ও পড়তে। অভিযোগ আছে, এজন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও দামি উপহার পান শিক্ষকরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান।

মানিকগঞ্জের লেমুবাড়ী বিনোদা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কক্ষ। টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনুপমের প্রকাশনীর গাইড বই। শিক্ষকদের কক্ষে কারা এসব বই রেখেছেন জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষকও।

লেমুবাড়ী বিনোদা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীন বন্ধু রায় বলেন, আচ্ছা বইগুলো কারা দিয়ে গেল ও কি ভাবে আসলো? সব শিক্ষক তো সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারে না অনেক সময় গাইড বইয়ের সহযোগিতা নেন। হয়তো তারাই দিয়ে গেছে।আর বিক্রেতারা বলছেন, গাইডবই সিলেবাসভুক্ত করতে শিক্ষক ও স্কুল সমিতিকে দেয়া হয় নগদ টাকাসহ নানা উপহার।

তবে শিক্ষকদের সাথে কন্টাকের মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ ও নানা মুল্যবান উপহার সামগ্রী মাধ্যমে এদের সাথে কথা বলে বই পাঠ্যর ব্যবস্থা করি। অনুপম কোম্পানি প্রায় ২ কোটি টাকা শিক্ষকদের পেছনে বিনিয়োগ করছে। আর পাঞ্জেরী, গ্লোবাল, পুথিনালয়, নবদূত ও গ্যালাক্সি সবোর্চ্চ ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করছে।একই অবস্থা লক্ষ্মীপুর ও সিলেটে। অভিযোগ আছে, শুধু মোড়ক বদলে পুরাতন গাইড বই বিক্রি করা হয় বাড়তি দামে। শ্রেণিকক্ষে সেসব বই না নিয়ে গেলে শিকার হতে হয় হয়রানির।

মানিকগঞ্জের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, তদন্ত করে আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এমন অনিয়মের জন্য ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে একটি রিট আবদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইড বই পড়ানো ও বিপনন নিষিদ্ধ করে হাইকোর্ট।

তথ্যঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে