ঢাকাঃ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি নিশ্চয়ই যথেষ্ট বিবেচনা করেই খালেদা জিয়ার জামিন না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা যেহেতু আইনের শাসনে বিশ^াস করি, তাই আমাদেরকে আদালতের সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তার আলোকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল (বিএসএমএমইউ) এর কিছু করণীয় থাকলে তারা তা নিশ্চয়ই করবেন। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন রায়ে বা প্রতিবেদনে যত যুক্তিই থাকুক বিপক্ষে গেলে ওনারা (বিএনপি) অভ্যাসগতভাবে বলেন, এটা ঠিক না। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ছয়জন ডাক্তার পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তাই এ ব্যাপারে সন্দেহ ওনারা করতে পারেন, আমি করি না।মন্ত্রী বলেন, ওনারা খালেদা জিয়ার জামিন চেয়েছিলেন মেডিকেল গ্রাউন্ডে। মেডিকেল রিপোর্ট দেখে সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, খালেদা জিয়াকে জামিনে অন্য কোথাও চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন নেই। বিএসএমএমইউ-তে যে চিকিৎসা হচ্ছে সেটাই যথেষ্ট।

বিএনপি বলছে আদালতে মেডিকেল রিপোর্ট ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে – এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ওনাদের পছন্দমত যেটাই হবে না সেটাই ভুল হবে। আর ওনাদের পছন্দ মত যদি অন্যায় কিছু হয় সেটাই সঠিক হবে। তাই ওনাদের কথার ওপরে নির্ভর করে তো কেউ সিদ্ধান্ত দিবেন না। যে কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে, সর্বোচ্চ আদালত নিশ্চয়ই সেটা দেখেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি যেহেতু আইনের শাসনে বিশ^াস করি, তাই সর্বোচ্চ আদালত যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেটাই আমাকে মেনে নিতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের প্রসঙ্গ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশ, সেখানে গাম্বিয়া কেন মামলা করেছে- একই অনুষ্ঠানে এই প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশ^াস করে যে, পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যেই গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) একটি মামলা করেছে। সকলেই বলছেন, আইসিজে’র এখতিয়ার খুব প্রসারিত। আসলে তা নয়, এর এখতিয়ার সীমাবদ্ধ। কিন্তু তারপরেও এই মামলার একটি তাৎপর্য আছে। তার কারণ মায়ানমারে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আইসিজে’র বিচারপতিগণ দেখবেন এবং তারা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনবেন। রাখাইন রাজ্যে যে নৃশংসতা হয়েছে তা সারা বিশ^কে গভীরভাবে অনুধাবন করার জন্য এবং প্রচার করার জন্য আইসিজে এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

মায়ানমারে গণহত্যা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইসিজে’র রায়ের উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ কি ফলাফল পাবে। আজকেই এর ফলাফল বলাটা সমীচীন হবেনা বলে তিনি মনে করেন।মন্ত্রী বলেন, আইজিসে’র আদেশ বা রায়ের জন্য আমাদের একটু ধর্য্য ধরা উচিত। তাপরপরে পরবর্তী কর্মপন্থা সমন্ধে আলোচনায় যাওয়া উচিত। আইসিজে একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আদালত। এখানে দুইপক্ষের শুনানীর নিশ্চয়ই তাৎপর্য আছে, প্রভাব আছে। আমার মনে হয় সেই সবের আলোকেই আইসিজে মামলা শুনানীর পরে তাদের বক্তব্য দিবে।

আইসিজে-এর মুখোমুখি করানোতে মায়ানমার এর ওপর একটি চাপ তৈরি হয়েছে কিনা – এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন বিশে^র অন্যতম শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছে যে, মায়ানমারে গণহত্যা হয়েছে এবং গণহত্যার জন্য আমরা অমুক অমুক কে দায়ী করি। সেই ক্ষেত্রে বিশে^র অবস্থান কিন্তু খুব পরিষ্কার। আর আইসিজে হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ফোরাম। যেখানে ১৮জন বিচারপতি আছেন। তাঁরা শুনবেন। তাঁরা আদেশ অথবা রায় দিবেন। এই িিবচারপতিদের ‘কনসিডারড ওপিনিয়ন’ সারা বিশে^ একটি তাৎপর্যপূর্ণ মতামত হবে বলে তিনি বিশ^াস করেন।

আইসিজে-এর রায় বা আদেশের পর রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানো সহজ হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত হবে এই রায় বা আদেশের পরে আমরা আবার এটা বিবেচনা করবো। কিন্তু আমরা যেহেতু প্রতিবেশী এবং সকলের সাথে বন্ধত্ব আমাদের পররাষ্ট্রনীতি তাই আমরা চেষ্টা করবো আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে।আইসিজেতে বাংলাদেশ মামলা করলো না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাম্বিয়া মামলা করেছে। আমার মনে হয়ে আমাদের এখানেই থাকা উচিত। আর একটি মামলা বাংলাদেশ করতে পারতো কি পারতো না এই মুহুর্তে সেটা কিন্তু একটি ‘‘একাডেমিক ডিসকাশন”। এই একাডেমিক ডিসকাশনে যাওয়ার তো প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশ কেন মামলা করলো না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ফৌজদারী মামলায় যেখানে গণহত্যা হয় বা গণহত্যা হয়েছে- এরকম কোন প্রশ্ন উঠে থাকে সেটার ব্যাপারে সারা বিশে^র যে কেউ মামলা করতে পারে। কোন সভ্য দেশে (ফৌজদারী ) মামলার ব্যাপারে যদি একটি পুলিশ স্টেশনে শুধু একজন অভিযোগ করে যে এখানে একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সেটাই কিন্তু মামলায় রূপান্তরিত করা যায়। এই ক্ষেত্রেও গাম্বিয়া মুসলিম রাষ্ট্র এবং তারা বলেছে যে, সেখানে মুসলমানদেরকে হত্যা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে গাম্বিয়ার মামলা করার এখতিয়ার আছে।বাংলাদেশ আইজিজে-তে একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা চলতে পারে কিনা সে ব্যাপারে আইসিজে তদন্ত করছে। আমার মনে হয় সে পর্যন্তই রাখা উচিত।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে