কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় পুলিশী তদন্তে বটতৈল মৌজায় গড়ে ওঠা প্রামানিক সুপার মার্কেট অবৈধভাবে দখল করে জোর পূর্বক বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কোন প্রমান মেলেনি। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাষন ও অপরাধ) এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত পুর্বক গত ২৪ জুলাই বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের (কুষ্টিয়া সদর) কাছে এ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয় যার স্বারক নং-অপরাধ/১৮৬০।

জেলা পরিষদের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা কথিত প্রামানিক সুপার মার্কেটের মালিক বলে দাবিদার মোঃ রাকিবুল ইসলাম সম্প্রতি বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে (কুষ্টিয়া সদর) বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১২০(খ)/১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪০৩/৩৭৯ ও ৪২৭ ধারায় সি, আর- ৫৯৭/২০১৯ মামলা দায়ের করেন। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সী মো: মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল আজম, সার্ভেয়ার মোঃ মনিরুজ্জামান প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান শাহীন ও কেএনবি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামানকে আসামি করা হয়।

বাদী রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন গত ১০-০৬-২০১৯ ইং তারিখে আসামিরা ষড়যন্ত্র করে তার স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি ও মার্কেট অবৈধ অনুপ্রবেশ করে মার্কেট এবং দোকানের প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মালামাল চুরিসহ প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) এ,কে,এম জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অপরাধ) এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক গত ২৪ জুলাই বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের (কুষ্টিয়া সদর) কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। বিজ্ঞ আদালতের কাছে দাখিল করা ওই প্রতিবেদনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) এ, কে, এম জহিরুল ইসলাম বলেন তিনি সরেজমিন তদন্তকালে স্থানীয় এলাকাবাসী, মামলার এজাহারে বর্নিত সাক্ষী মার্কেটের ১২ জন দোকানদার, পাশ্ববর্তী দোকারদার ও কর্মচারীসহ অনেকের সাথে কথা বলেন। এবং সাক্ষীদের বক্তব্য ও জবানবন্দী প্রকাশ্য ও গোপনে রেকর্ড করেন।

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যেহেতু নতুন ও পুরাতন সকল দোকানদারগন পূর্বেই ভাড়া দোকান ছেড়ে দিয়েছে, তাই তাদের মালামাল নস্ট বা খোয়া যায়নি। পরবর্তিতে ১৬-০৬-২০১৯ ইং তারিখে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদপত্রের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঐ জমি দখল ও নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়ে জানিয়ে জেলা পরিষদের অন্যান্য বেদখলকৃত জমিও অফিসে যোগাযোগের মাধ্যমে লীজ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

জেলা পরিষদ কুষ্টিয়া ইজারাকৃত জমির স্থাপনা উচ্ছেদের সময় পাকা দালানভবন প্রামানিক সুপার মার্কেট ভেঙে ফেলার সময় মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থলে বর্ণিত অপরাধসমূহের প্রমান পাওয়া যায়নি। বিবাদীগনকে অত্র মামলায় অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হলো। প্রসঙ্গত জেলা পরিষদের প্রায় ২৫ শতক জমির কোটি কোটি মুল্যের সরকারি এই জায়গায় দ্বিতল মার্কেট নির্মান করে বছরের পর বছর ধরে ভাড়া আদায় করে আসছিল চক্রটি ফলে সরকার প্রতি বছর বিপুল অংকের রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল।
দীর্ঘ দিন পরে হলে অবশেষে গত ১০-০৬-২০১৯ ইং তারিখে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ দখলদারের কবল থেকে কোটি কোটি মুল্যের এই সম্পত্তি উদ্ধার করে। জেলা পরিষদ সরকারি এই সম্পত্তি শুধু দখল মুক্তই নয় সেই সাথে এই জায়গা থেকে সরকার যাতে রাজস্ব আহরন করতে পারে সেজন্য উক্ত জায়গা দখল মুক্ত করার পাশাপাশি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের অন্যতম পোল্ট্রি ও মৎস্য ফিস উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএনবি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের অনুকুলে ইজারা প্রদান করেছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শালঘরমধূয়া/ঝিনাইদহ রাস্তা/নয়নজুলির আর, এস, দাগ নম্বর ২০২৮ জে, এল নং ৪১ মোট ০ দশমিক ৯৫ একর জাম দীর্ঘদিন ধরে হরিশংকরপুর এলাকার মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম দোতলা মার্কেট নির্মান করে রেখেছিল। মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে মহাসড়কের আশে পাশের ১০ মিটার জায়গার মধ্যে কোন প্রকার হাট বাজার বসানো কিংবা কোন ধরনের বানিজ্যিক স্থাপনা নির্মান করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। কিন্তুু মহামান্য হাইকোর্টের এই নির্দেশনা সম্পুর্ন উপেক্ষা করে রাকিবুল ইসলাম দোতলা মার্কেট নির্মান করে ভোগ দখল করে আসছিল। এ বিষয়ে হাইকোর্ট থেকে তার প্রতি সমন জারি করা হলেও আইন-আদালতের তোয়াক্কা না করেই সে সরকারি এই সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছিল।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের রাকিবুল ইসলমের দখলে থাকা এই সম্পত্তি দখল মুক্ত করার উদ্যেগ গ্রহন করে। জেলা পরিষদের নোটিশের প্রেক্ষিতে ওই মাকের্টের ভাড়াটিয়া প্রায় ৬ মাস আগেই তাদের ঘর ছেড়ে দেয়। সব ভাড়াটিয়া ঘর ছেড়ে দিলেও সরকারি এই মুল্যবান সম্পত্তি রাকিবুল ইসলাম জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর না করে নানা টালবাহানা করতে থাকে। জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল আজম, সার্ভেয়ার মনিরুজ্জামান সহ সংশিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ গত ১০-০৬-২০১৯ ইং তারিখে উপস্থিত থেকে জায়গাটি দখলমুক্ত করে।

একই সাথে উক্ত জায়গা থেকে যাতে সরকারি রাজস্ব আহরিত হয় সেই লক্ষ্যে গত ৩ জুন উক্ত সম্পত্তি দেশের অন্যতম পোল্ট্রি ও মৎস্য ফিড উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএনবি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামানের অনুকুলে জেপ/কুষ/১৯/২০৫ নং স্মারকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সি মো: মনিরুজ্জামান বাৎসরিক ১,০৮,৯০০ টাকা খাজনা গ্রহন পূর্বক ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের জন্য ইজারা প্রদান করেন। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সি মো: মনিরুজ্জামান জানান, দির্ঘদিন ধরে সরকারি এই মুল্যবান সম্পত্তি বেদখল হয়ে ছিল। যার ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বি ত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ উক্ত জায়গা দখল করে যথাযথ অবলম্বন করে কেএনবি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের অনুকূলে ইজারা প্রদান করেছে।

কে এম শাহীন রেজা
কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে