রাবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের কথা বিবেচনায় নিলে প্রথমেই আসে মসলিন কাপড়ের নাম। আজ থেকে চার-পাঁচশ বছর আগে মসলিনের কদর ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। মসলিনের প্রসঙ্গ উঠলে তার সাথে অনেক গল্পও সামনে আসে। জনশ্রুতি আছে যে একটি মসলিন শাড়িকে দিয়াশলাইয়ের বাক্সে রাখা সম্ভব। দিয়াশলাইয়ের বাক্সে রাখা সম্ভব হোক বা না হোক মসলিনের কাপড়ের সূক্ষ্মতা এবং হালকা আরামদায়কভাব নিয়ে কোন বিতর্ক নেই।
এই মসলিন বিলুপ্ত হয়ছে আজ থেকে অন্তত তিনশ বছর আগে। কিন্তু মসলিন মসলিন তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় গত ১ বছরের গবেষণা শেষে দেশের দক্ষিণ উপকূলের জেলা বাগেরহাটে মিশরের প্রাচীন একটি তুলার জাতের সন্ধান পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।
পৃথিবী বিখ্যাত সে গবেষণা করতে গিয়ে বাগেরহাটের একটি গ্রামে এই তুলার সন্ধান পান তারা। অনন্য এবং একমাত্র তুলাটি দেশের অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না বলে জানান প্রকল্পের গবেষণা প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন।তুলাটির নাম, গসিপিয়াম বারবারেন্স। তুলাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, ফলের (বল) আকার বড়, তুলার আঁশ লম্বা, মাজ উন্নত, উৎপাদনও বেশি। এই তুলার মান এতো উন্নত যে, তুলাটি দিয়ে তৈরি কাপড় সাধারণত উন্নত বিশ্বের ৫ তারকা হোটেলের বিছানার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই তুলাটি ছাড়াও বাংলাদেশের প্রাচীন কয়েকটি তুলার সন্ধান পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। তুলার নমুনা সংগ্রহকালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, রাবির ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফিরোজ আলম ও গবেষক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।তিনি বলেন, সাধক খান জাহান আলী (র.) ১৪ শতকের সমসাময়িককালে যখন এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য আসার সময় তুলার জাতটি সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। আর ইরাকের মসূল শহরে প্রচুর পরিমাণ তুলার চাষ হতো। আর এই অঞ্চলে মসলিন কাপড় যারা তৈরি করেছেন তাদের অধিকাংশই মসূলের লোক। সেই জাতের একটি জাত হয়তো থেকে গেছে।
এর আগে গবেষকদের তুলাটি সম্পর্কে সন্ধান দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী। গত বছরের ডিসেম্বরে বাগেরহাটের ওই গ্রাম থেকে তুলার জাতটি সংগ্রহ করা হয়। তবে গ্রামটির নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
মেশকাত মিশু
রাবি নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























