শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু অতপর জাতির পিতা। এমন একজন মহৎ রাজনীতিবিদ- যিনি বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙক্ষা আর অন্তরের নীরব কান্নাকে ভাষায় রূপ দিয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের তিনি শুধু নির্মাতাই নন, তার প্রধান প্রাণপুরুষও। হাজার বছরের সেই শ্রেষ্ঠ বাঙালির নিরানব্বইতম জন্মবার্ষিকী ও শততম জন্মদিন। সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে।

গাপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার নিভৃত পল্লীতে জন্ম নেয়া শিশুটি কালক্রমে হয়ে ওঠেন মহাকালের মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। হয়ে উঠেন বাঙালি জাতির জনক- তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাকে ছোট বেলায় সবাই খোকা নামে ডাকতেন। টুঙ্গীপাড়ার সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে ১৯২০ সালের এই দিনে জন্ম নেয়া শেখ মুজিব- ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শৈশব থেকেই শেখ মুজিব ছিলেন, দাবি আদায়ের অকুতোভয় সৈনিক। তাই ভবিষ্যতের কান্ডারিকে চিনতে ভুল করেননি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহী সোহরাওয়ার্দী। তার সহচর্য পেয়ে নিজেকে পরিপক্ক এক নেতা হিসেবে গড়ে তোলেন শেখ মুজিব। পাকিস্তানের জন্মের পরপরই বুঝতে পেরেছিলেন বাঙালির সাথে প্রবঞ্চনা করা হয়েছে। শুরু হলো আবারও অধিকার আদায়ের লড়াই। ৪৮ এ গড়েন ছাত্রলীগ। তারপর- বাংলা ভাষার আন্দোলন, ছয় দফা তথা স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতার সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পথ বেয়ে স্বাধীন জাতি রাষ্ট্রের জনক হয়ে ওঠা, ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা আর বাঙালির সব সময়ের প্রাসঙ্গিক।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্রস্টা এই মহানায়কের জীবনের ১৪টি বছরই কেটেছে জেলখানার প্রকোষ্ঠে। আন্দোলন, সংগ্রামে নেতৃত্ব দান আর নির্যাতন সয়ে রাজনীতির চৌহদ্দিতে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন আমজনতার নেতা। গবেষক ডক্টর শামসুজ্জামান খানের ভাষায় বঙ্গবন্ধু মানে- চিন্তা-চেতনা ও মননে পরিপূর্ণ এক রাজনৈতিক সাধক। তাঁর মতে- শত চেষ্টা করেও ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা যায়নি, যাবেও না। এই রাজনৈতিক সাধকের নীতি ও আদর্শকে ধারন করে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যেতে পারে নিরন্তর।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসেরও অংশ। সেই অখন্ড ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে শেখ মুজিবের নাম। এবারের জন্মদিন থেকেই শুরু হচ্ছে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি।

তথ্যঃ বৈশাখী অনলাইন
অনলাইন নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে