চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক খনন শুরু হবে আগামীকাল। যা উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৩২ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এই টানেলকে দেশের যোগাযোগে নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

কর্ণফুলি নদীর মোহনায় দুই পাড়েই চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। চীন থেকে আনা টানেল বোরিং মেশিন বা টিবিএম দিয়ে চলছে পরীক্ষামূলক খনন। এই মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটি খননের পাশাপাশি বসাবে সেগমেন্ট। চীনে বানানো প্রায় দুই হাজার সেগমেন্ট এরিমধ্যে পৌঁছেছে প্রকল্প এলাকায়।

নকশা অনুযায়ী কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে দুটি টিউবে চার লেন টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার। প্রতিটি টিউবে দ্রুতগামী গাড়ি চলাচল পথ ছাড়াও থাকছে স্বল্পগতির যান চলাচলের আলাদা লেন। এছাড়া উভয় প্রান্তে থাকছে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। আনোয়ারা প্রান্তে তৈরি হবে ৭০০ মিটারের ফ্লাইওভার।

কর্ণফুলি টানেলের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. অনুপম সাহা বলেন, এইরকম একটি প্রকল্প, যেটি অত্যন্ত ইউনিক এবং আমাদের চট্টগ্রামবাসীসহ সারা বাংলাদেশে এই প্রকল্প নিয়ে জনসাধারণের বেশ আগ্রহ আছে। যেহেতু আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই তাই আমরা অত্যন্ত নিঁখুতভাবে এটি করার চেষ্টা করছি। আমরা কাজের মধ্য দিয়েই অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। প্রকল্প ব্যয়ের ৬০ ভাগ দিচ্ছে চীন, বাকিটা বাংলাদেশের। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। টানেল ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়াডার্স এসোসিয়েশন -বাফার পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, এই টানেল হবার পরে ঐ পাড়ে যদি জেটি তৈরি হয় তাতে পন্য সাথে সাথে এই পাড়ে প্রয়োজন হলে আনা যাবে। যোগাযোগের উন্নতির কারণে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত নয় বরং অনেক উপকৃত হবেন।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো এসোসিয়েশন-বিকডার সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, এটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ, চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের জন্য। বিশেষ করে দ. চট্টগ্রামের সাথে সমগ্র বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি অনেক ফাস্ট হয়ে যাবে। এটা অর্থনীতির উপর একটা বড় ইমপ্যাক্ট আছে, পজিটিভ ইমপ্যাক্ট। বন্দরের উপরও ইমপ্যাক্ট আছে, সবগুলোই পজিটিভ। টানেল ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পরিকল্পনার ভেতরে নিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছে নগর পরিকল্পনাবিদরা।

নগর পরিকল্পনাবিদের প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, এখন থেকে আমরা যদি ছক না করি, একটা রিজিওনাল প্ল্যান করে না ফেললে লোকজন যে যেখানে খুশি জায়গা কিনবে, ইন্ড্রাস্ট্রি বানাবে। এইটা পরবর্তীতে সমস্যা করবে। এই কাজ এখনই করতে হবে, নইলে একটা কাজ করে ভাঙ্গা সম্ভব হবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে হওয়া দেশের প্রথম এই টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে