পুরনো ঢাকায় রাসায়নিক পণ্য মজুদের লাইসেন্স আছে মাত্র আড়াই হাজার আর রাসায়নিক পণ্য গুদাম আছে প্রায় ২৫’হাজার। সে হিসেবে অবৈধ গুদাম রয়েছে ২২ হাজারের বেশি। এরমধ্যে আবাসিক ভবনে আছে প্রায় ১৫ হাজার গুদাম। এসব গুদামে প্রায় ২০০ ধরনের রাসায়নিক পণ্য মজুদ রয়েছে।

বিক্রির জন্য মজুদ করা রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে গ্লিসারিন, সোডিয়াম অ্যানহাইড্রোস, সোডিয়াম থায়োসালফেট, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, মিথাইল ইথাইল কাইটন, থিনার, আইসোপ্রোপাইলসহ অতিমাত্রায় দাহ্য পদার্থ। এরমধ্যে পুরান ঢাকার সুরিটোলা, সিদ্দিকবাজার, সিক্কাটুলি, কায়েতটুলি, আগামসি লেন, মালিটোলা, আবদুল হাদি লেন ও আগা সাদেক রোডে সবচেয়ে বেশি রাসায়নিকের কারখানা ও গুদাম রয়েছে। এছাড়া সাত রওজা, আবুল খয়রাত রোড, মিটফোর্ড, আলুবাজার, নুরবঙ্গ ও বংশাল রোডের অনেক আবাসিক ভবনে দাহ্য পদার্থের কারখানা ও গুদাম করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার লালবাগ, ইসলামবাগ, হাজারীবাগ, কোতোয়ালি, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীর চর, শ্যামপুর, কদমতলীসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে ছোট ছোট রাসায়নিকের কারখানা রয়েছে। এসব কারাখানায় ব্যাটারি তৈরি, নকল ওষুধ, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক সরঞ্জাম, ঝালাই, খেলনা, জুতা-স্যান্ডেলসহ শতাধিক পণ্য তৈরি করা হয়। এসব কারখানায় ব্যবহার করা হয় দাহ্য রাসায়নিক।
২০১০ সালের ৩’জুন নিমতলীতে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের কারখানা, গুদাম ও দোকানে। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় ১২৪ জন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বার বার আবসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে রাসায়নিকের কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে আবারো নিমতলীর মতো ট্রাজেডি ঘটলো চকবাজারে।
নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্স নিউজ


























