আয় বাড়াতে আর ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনের সুবিধা দিতে আলাদা ফ্লাইট চালাতে চায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। এমিরেটস, সৌদিয়া, কাতার এয়ারওয়েজসহ বিশ্বের বহু বিমানসংস্থা এখন ঢাকা থেকে নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট চালাচ্ছে যা বাংলাদেশ বিমানের নেই।

আকাশপথে ঢাকা থেকে বিদেশে পণ্য আনা নেয়ার পরিমান দিনে দিনে বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২শ টন পণ্য আনা-নেয়া হয়। এসব পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীরা বিমানের ফ্লাইট ব্যবহার করতে চাইলেও সেই সুযোগ নেই।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিংহভাগ পণ্য পরিবহন করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। বর্তমানে উড়োজাহাজে আমদানি-রপ্তানি করা পণ্যের মাত্র ১০ ভাগ পরিবহন করছে বিমান। এতে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি ব্যবসায়ীরা। গেল অর্থবছরে যাত্রীবাহী ফ্লাইটে পণ্য পরিবহনে বিমানের আয় ছিল ২৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু যাত্রীবাহী ফ্লাইটে নির্দিষ্ট পরিমানের বেশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ না থাকায় এই আয় খুব বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়। এ সীমাবদ্ধতা কাটাতে চায় বিমান।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, কার্গোর বিপুল সম্ভাবনাময় বাজার ধরতে এবং বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি রপ্তানিতে গতিশীলতা আনতে বিমান বাংলাদেশ ডেডিকেটেড কার্গো সার্ভিস চালুর উদ্যগ নিয়েছে। আর ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বিমানের বিশেষায়িত কার্গো সেবা চালু হলে ব্যবসায়ীদের জিম্মিদশা কমবে।

বাফা (পোর্ট অ্যান্ড কাস্টমস) পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ বখতিয়ার বলেন, আমাদের পণ্য আনা নেয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে সে সুযোগে ফরেন ক্যারিয়ার রেইট বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে প্রতি কেজিতে এক থেকে দেড় ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হয় আমাদের।

ঢাকার বিমানবন্দর দিয়ে এখন প্রতিদিন গড়ে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৬টি কার্গো ফ্লাইট চলছে। এর অর্ধেক বিমানের ভাগে পড়লে বছরে আয় বাড়বে অন্তত এক হাজার কোটি টাকা, বলছেন বিমান কর্মকর্তারা।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে