আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে জোর প্রচার-প্রচারণা চলছে দেশ জুড়ে। জনসভা, জনসংযোগ ও মাইক বাজিয়ে প্রচারের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার।

প্রার্থীরা ইউটিউব ভিডিও, ফেসবুক পোস্ট, ফেসবুক লাইভ, মোবাইল এসএমএস ও ই-মেইল পাঠিয়েও ভোট চাইছেন ভোটারদের কাছে। শুধু তাই না—ডিজিটাল মাধ্যমে পারদর্শিতা দেখিয়ে কিছু প্রার্থী নিজেদের প্রচারে সংগীত বানিয়েছেন যা দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ। আর মোট ভোটারের ২২ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। নতুন ভোটাররা আগ্রহের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন এই ডিজিটাল নির্বাচনি প্রচারে।

২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচার সংগীত, ‘জয় বাংলা বলে আগে বাড়ো’র ভূষয়ী প্রশংসার পরে এ বছর নির্বাচনি প্রচারে সংগীত বানিয়েছেন প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনের জন্যেও। এর মধ্যে নারায়নগঞ্জ-১ আসনে বীর প্রতীক গাজী গোলাম দস্তগীরের ‘ভোট দিতে নৌকায় রাজি, জিতবে আবার আমার গাজী’, নাটোর-৩ আসনের ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের ‘আমার নৌকা চালাই রে-চলন বিল দিয়া’ ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফেসবুকে প্রায় পাঁচ লাখবার ভিউ হওয়া এই দুই নির্বাচনি প্রচার সংগীত স্থান পেয়েছে সাধারণ মানুষের মোবাইলের ওয়েলকাম টিউনেও।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলের সমর্থকরা নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করছে নির্বাচনি সংগীত। যা সরব রেখেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও একটি নির্বাচনি সংগীত তৈরি করা হয়েছে যাতে ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নিতে আহ্ববান জানানো হচ্ছে। এত সবের মধ্যে পিছিয়ে নেই নির্বাচন পর্যবেক্ষক গ্রুপও। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের শান্তিতে বিজয় শিরোনামে গান দিয়ে সচেতন করছে ভোটাদের—যেন তারা জনপ্রিতিনিধি বেছে নেওয়ার সময় নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। গানটির কথাও খুব শক্তিশালী, ‘শান্তি হবে না ভোট পাবে না, যতই বাধো তুমুল জোট…’

নির্বাচনি প্রচার সংগীত ছাড়াও প্রার্থীরা চেষ্টা করছেন নিজ এলাকার সার্বিক অবস্থা নিয়ে ছোট ছোট ডকুমেন্টারি তৈরি করে নিজ নিজ ফেইসবুক পেইজে আপলোড দেওয়ার। প্রায় প্রত্যেক প্রার্থীই চেষ্টা করেছেন একটি ফেসবুক পেইজ রাখার—যেখানে তারা নিজেদের প্রচার-প্রচারণা ছবি, ভোটারদের প্রতি তাদের বার্তা তুলে ধরার। এমনকি কেউ কেউ নির্বাচনি প্রচারের লাইভও করছেন সরাসরি।

ডিজিটাল প্রচার-প্রচারণা নিয়ে কী ভাবছে তা জানতে চাওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তরুণ ভোটারদের কাছে। তাদের একজন জাহিদ হোসেন, পড়ছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচার আমরা আগেও দেখেছি। কিন্তু সেগুলো এত গোছানো সুন্দর ছিল না। ডিজিটাল প্রচারে প্রার্থীরা এলাকায় তাদের কী ধরণের কাজ করেছেন, সামনে তারা কী কাজ করবেন এসবের একটা চমৎকার উপস্থাপনা করছেন—যা দেখতেও বেশ লাগছে।’ তরুণ পেশাজীবী মোবাশ্বেরা টুম্পা বলেন, ‘ডিজিটাল প্রচারণার এই সংগীতগুলোর সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক সব মিলিয়ে আলাদা একটা বিনোদনের মাত্রা যোগ করছে। তা ছাড়া এই সুযোগে আমরা আমাদের মৃতপ্রায় সংগীত শিল্পেও একটা আলোড়ন দেখতে পাচ্ছি—যা অবশ্যই আশা জাগায়।’

কেনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে আগ্রহী হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো, এ থেকে কী ধরণের সহায়তা পাচ্ছে তা জানতে চাওয়া হয় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেই।অপরদিকে বিএনপির ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফাহাম আবদুস সালাম জানান, ‘নির্বাচনি প্রচারে ডিজিটাল মিডিয়া বেছে নেওয়ার বিষয়ে বিএনপির মূল লক্ষ্য ছিল সবার কাছে পৌঁছানো। বিএনপি অনুভব করছিলো প্রচলিত ধারার মাধ্যম ব্যবহার করলে তারা বাঁধা পেতে পারে। এ ছাড়াও আর্থিকভাবে বিষয়টি ছিল সহজলভ্য কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একটি টিভি চ্যানেলের চেয়ে অনেক কম খরচে অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।’

নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় এই ডিজিটালাইজেশন সংযুক্তি সম্পর্কে ডিজিটাল কনটেন্ট বিশেষজ্ঞ এ এস এম রফিকুল্লাহ জানান, ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার-প্রচারণায় সবাই বিনিয়োগ করে, অন্যান্য দেশেও এটা জনপ্রিয়। বাংলাদেশে ফেসবুকে প্রায় তিন কোটি অ্যাকটিভ আইডি আছে তাই ডিজিটাল প্রচার-প্রচারণার বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক দল এড়িয়ে যেতে পারে না। তবে তিনি এও মনে করেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভোটারকে লক্ষ্য করে প্রচার চালানো সম্ভব। যা হয়তো রাজনৈতিক দলগুলো করতে পারেনি। বিএনপি নির্দিষ্ট বার্তা দিতে পারলেও আওয়ামী লীগ তা পারেনি। যা তাদের নির্বাচনি প্রচারের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হতে পারত।’

নিউজ ডেস্ক  ।।  বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে