পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। তিনি বলেন, নির্বাচনের নতুন ইশতেহারে যদি বলাও হয়, পার্বত্য চুক্তি শতভাগ বাস্তবায়িত হবে- এটা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ, দেশের যারা নেতৃত্ব দেন এসব শাসকগোষ্ঠী চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না। বহু দল নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। তারা প্রতিবার নির্বাচনী ইশতেহার দেয়, কিন্তু ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়ন করেনা।
রাজধানীতে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্তি বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। ক্ষোভ নিয়ে সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে সরকার শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। আমার বাড়িতে ও গাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ে। কিন্তু আমার ক্ষমতা একজন পুলিশ কনস্টেবল বা সেনাসদস্যের চেয়েও কম। আর এটাই বাস্তবতা। তাহলে চুক্তিটা কোথায় বাস্তবায়িত হল? তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য এ চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল। এ চুক্তি স্বাক্ষরের পশ্চাতে ছিল একটি প্রলম্বিত আন্দোলন যার অধিকাংশ সময় ছিল সশস্ত্র অবস্থায়। কিন্তু ২১ বছর পরেও দেখা যাচ্ছে এ চুক্তির মূল লক্ষ্য পাহাড়ের মানুষেরকে একটি বিশেষ শাসন ব্যবস্থার অধীনে তাদেরকে ক্ষমতায়ন করার যে বাস্তবতা তা হয়ে উঠেনি।
‘চুক্তির ২১ বছর অতিবাহিত হলেও শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ সরকারপক্ষ বলছে, সরকার আন্তরিক তাই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই কথা আন্তর্জাতিক মহলেও তারা প্রচার করছে।’
‘আঞ্চলিক পরিষদের যে দায়িত্ব বা ক্ষমতা সেটা সরকার এখনও হস্তান্তর করেনি। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’ সন্তু লারমা বলেন, ‘আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বোঝাতে চায় যে, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে আছি। এখন এমন একটা অবস্থা সেই পদ থেকে সরে যেতে পারছি না, থাকতেও পারছি না। এটা একটা যন্ত্রণার।’ ‘তিনটি জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের দিকে না গিয়ে সরকার বছরের পর বছর মনোনয়নের মধ্য দিয়ে ধরে রেখেছে। চেয়ারম্যানরা কোনো না কোনো ক্ষমতাসীন দলের সদস্য আর দলের স্বার্থই সংরক্ষণ করেন।’
জাতীয় নাগরিক উদ্যোগ-এর আয়োজনে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে পার্বত্য পার্বত্য চুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১ বছর : বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রত্যাশা’- শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ার এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব প্রমুখ।
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ

























