বিজয়ের মাস, ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় দেশের চূড়ান্ত বিজয়। লাখো শহীদের রক্ত ও মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙ্গালি পায় নিজেদের একটি স্বতন্ত্র ভূ-খন্ড, একটি স্বাধীন দেশ- বাংলাদেশ। সাতচল্লিশের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং একাত্তরে বিজয় অর্জনের পর থেকে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বারবার দেশকে পেছনে টেনে নেয়ার অপচেষ্টা চালালেও, মর্যাদার সাথে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হয়ে জন্ম হয় দুই রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের। দৃশ্যত একটি রাষ্ট্র হলেও পাকিস্তানের দুই অংশ পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত প্রেক্ষাপট ছিলো সম্পূর্ণ আলাদা। একটা সময় পূর্ব পাকিস্তান ও এর জনগণকে রীতিমত শাসন থেকে শোষন করতে শুরু করে পশ্চিম পাকিস্তান। যা পরে অত্যাচারের পর্যায়ে নেমে আসে। দীর্ঘ তেইশ বছর শোষিত হওয়ার পর অত্যাচারের শৃঙ্খল থেকে বাঁচার আশায় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ মুক্তির সংগ্রামের ডাক দেন বাঙ্গালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকে দেশ স্বাধীন করার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় দেশের আপামর জনসাধারণ। বিভিন্ন রাষ্ট্র পশ্চিম পাকিস্তানের সেনা শাসকদের সমর্থন জানালেও মুক্তিকামী বাঙ্গালির পাশে এসে দাঁড়ায় বন্ধু রাষ্ট্র ভারত।
মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকা একের পর এক স্বাধীন করে চলে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, তেমনি সময়ে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর, জাতিকে মেধাশূন্য করে দিতে সূর্য় সন্তানদের হত্যা করে পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আল বদররা। তবে পরাজয় রোধ করতে পারেনি তারা। ঠিক তার দুই দিনের মাথায়, ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগিরা। লালসবুজের পতাকা উড়িয়ে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ায় স্বাধীন এক ভূখন্ড, বাংলাদেশ।
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ

























