পথ চলতে ক্ষুধা নিবৃত্ত করা এবং দাম কম অথচ মুখরোচক এসব মিলে রাস্তার খাবার বা স্ট্রিট ফুড সবার কাছেই আকর্ষণীয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব মানুষ খেলেও সবার স্বাস্থ্যের জন্যই নানা ঝুঁকি তৈরি করে এসব রাস্তার খাবার। এক পর্যবেক্ষণ বলছে, রাস্তায় বিক্রি করা খাবার খেয়ে প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ নানান রোগে আক্রান্ত হয়।
চিকেন ফ্রাই, নুডলস, বার্গার, ফ্রাইড রাইসের মত বিলাসবহুল দোকানের লোভনীয় খাবারের পসরা সাজিয়ে রাস্তায় সাজিয়ে বসেছেন অনেক বিক্রেতা। আর দৃষ্টিনন্দন এসব খাবারে আকৃষ্ট হয়ে খাচ্ছেন ভোক্তারাও। তবে কোথায়, কিভাবে তৈরী হয় এসব খাবার, তার খোঁজ কেউ রাখে না। আবার অনেকে নিরুপায় হয়ে এসব খায়।
তৈরির উৎস খুজতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে নোংরা পরিবেশে বানানো হচ্ছে, রাস্তায় বিক্র করা এসব খাবার। কোন সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা রাখা তো দূরের কথা ভাবনায়ই নেই এসব বিষয়। প্রতিটি কাজ শেষে একই পানিতে হাত ডুবিয়ে হাত পরিস্কার করছেন। তাদের চিন্তায় এসব স্বাভাবিক, এর মধ্যে অস্বাস্থ্যকর কিছু নেই।
আরও খারাপ দশা ফুচকা ও বিস্কুট-বন কেক, আচার তৈরীর কারখানা গুলোর। নোংরা পরিবেশের পাশাপাশি অধিকাংশ কারখানারই নেই সঠিক কোন কাগজপত্র। কোন ফুচকা কারখানার নেই বিএসটিআই-এর অনুমোদন। অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গেলে, ব্ষিয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য এই প্রতিবেদককে ঘুষ দিতে চান এবং টাকা নেয়ার জন্য রীতিমত চাপাচাপি করেন।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী এসব খাবারে আড়াইশ’র বেশি ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইড, টক্সিন, মেটাল থাকে। যার ফলে থেমে থেমে জ্বর, পেট খারাপ, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ নানান ধরনের রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। এছাড়া হৃদরোগ, কিডনি সমস্যাসহ ক্যান্সারের মত মারাত্মক রোগেও আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে বলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে রাস্তায় তৈরী এসব খাবার স্বাস্থ্যকর করতে দোকানি ও সাধারণ মানুষকে যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি এসব খাবারের মান নিশ্চিতে নজরদারি থাকার আয়োজনও লাগবে।
বৈশাখী








