নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৯টি দল ভোটে এসেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। শনিবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে ২৯ দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন ১৯৬৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ৭৪৭ জন। আগামী ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের তালিকা যাচাইবাছাই করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীরা ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। দল ও প্রার্থীর সংখ্যায় গড়বড়ের ব্যাখ্যা দিয়ে অশোক দেবনাথ বলেন, মাঠ পর্যায়ের পাঠানোর তথ্যে করণিক ত্রুটির কারণে সংখ্যা এদিক-ওদিক হয়। ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হয় বৃহস্পতিবার বিকালে।

আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুর-১, জামালপুর-৫, ময়মনসিংহ-৩, মানিকগঞ্জ-২ ও চট্টগ্রাম-৪, এই পাঁচটি আসনে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে দুটি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। তাছাড়া ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামী লীগের ২ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরমধ্যে শাহজাহান ওমরকে নৌকা বরাদ্দের জন্য বলা হয়েছে। এই আসনে এর আগে মনোনয়ন পাওয়া বজলুল হক হারুন নৌকা চেয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জাতীয় পার্টি এবার ২৮৮টি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ১৬টি আসনে দুজন করে প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন। এই দলের পক্ষেও মনোনয়ন জমা পড়েছে ৩০৪টি। তালিকা অনুযায়ী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১৪২ প্রার্থী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে ১১৬ প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন।

অন্যান্য দল থেকে মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা— জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) থেকে ২০ জন, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে ছয়জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি থেকে ১২ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে ছয়জন, ওয়ার্কার্স পার্টি অব বাংলাদেশ থেকে ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ থেকে ১৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু) থেকে ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন থেকে ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে ১৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে দুজন, গণফোরাম থেকে ৯ জন, গণফ্রন্ট থেকে ২৫ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মুকিত) থেকে ১৩ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে ৩৯ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি থেকে ১৮ জন, ইসলামী ঐক্যজোট থেকে ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে ৩৭ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (পাঞ্জা) থেকে পাঁচজন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট থেকে ৭৪ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট থেকে ৫৫ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন থেকে ৪৯ জন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি থেকে ৮২ জন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে