কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশত। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভৈরব রেলস্টেশনের আউটার পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বড় ভাইয়ের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহে যান সুজন মিয়া। ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি, তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার, তাঁদের ছেলে সজীব মিয়া ও ইসমাইল মিয়া।
সুজন মিয়া ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের বনহাটি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁরা। নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত সুজনের ভাই স্বপন মিয়া জানান, সুজন মিয়া ঢাকার মোহাম্মদপুর তাজমহল রোড এলাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে ভ্যান গাড়িতে ডাব বিক্রি করে সংসার চালাতেন। গত শুক্রবার বড় ভাইয়ের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়িতে আসেন। অনুষ্ঠান শেষ করে সোমবার এগারসিন্দুর ট্রেনে করে ঢাকার কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছিলেন। স্বপন মিয়া নিজেও ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার সময় তিনি পাঁচ নম্বর বগিতে থাকায় বেঁচে যান।
নান্দাইল থানার ওসি জানান, একই পরিবারের চারজনের মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া মেনে আনা হবে। তারপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মালবাহী ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। একইসময় ভৈরব থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল যাত্রীবাহী ট্রেন এগারো সিন্ধুর। ভৈরব রেলস্টেশনের আউটার পয়েন্টে ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের শেষ দুই বগিতে ধাক্কা দেয় মালবাহী ট্রেনটি। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যায়। রাত পৌনে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা সময় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার রাসেল শেখ জানান, এ পর্যন্ত ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।




























