কেবিনে রেখেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। কেবিনে জরুরি সব সাপোর্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যখন যা প্রয়োজন তাৎক্ষণিকভাবে তা সরবরাহ করা হচ্ছে।

বুধবার (১১ অক্টোবর) রাতে মেডিকেল বোর্ড-এর একজন সদস্য চ্যানেল 24-কে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার অল্প সময়ের জন্য খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেয়া হয়। স্বাস্থ্যের কিছু পরীক্ষা শেষে আবার কেবিনে নিয়ে আসা হয়। এখন অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তবে বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ যেকোনো সময় পরিস্থিতি ফের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন তাদের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসা দিতে সহযোগিতা করেন। তবে শারীরিক দুর্বলতা থাকায় অনেক ওষুধ খেতে চান না। আর উনাকে সবসময় স্যালাইন ও ইনজেকশনের ওপর থাকতে হচ্ছে। দুই দিন আগে রক্তের হিমোগ্লোবিনও কিছুটা উন্নতি হলেও ফের কিছুটা কমছে। ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চিকিৎসক জানান, নানা এন্টিবায়োটিকের মাধ্যমে লিভারের সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া স্থায়ী কোনো সমাধান নেই। স্বাস্থ্যের বিভিন্ন রিপোর্ট দেখে বোর্ড বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনা আনে প্রতিনিয়ত। কিছু রিপোর্ট একাধিক হাসপাতালে টেস্ট করা হচ্ছে। বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। লিভারের পাশাপাশি তার কিডনি জটিলতা ও ডায়াবেটিসের মাত্রাও বাড়ছে। কিডনির ক্রিয়েটিনিন মাঝে মধ্যে বর্ডার লাইনের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। ফলে একটিকে কমাতে গেলে আরেকটিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর আগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে জানায় মেডিকেল বোর্ড। সোমবার (৯ অক্টোবর) বোর্ডের সদস্যরা আরও জানান, দেশের চিকিৎসা দিয়ে আর বেশি দিন তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে।

তারা আরও বলেন, কিছু ওষুধপত্র ও সীমিত পদ্ধতির ওপর ভর করে বর্তমানে কোনোমতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এটা সাময়িক। এখন অনেক উচ্চমানের অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করছে না। এ অবস্থায় মারাত্মক মৃত্যুঝঁকিতে আছেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে