আগামী জানুয়ারির নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকারের পরাজয় হলে বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্মুখীন হবে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রন্টলাইন। রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া শুধু ভারতের উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং এতে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক অস্থিরতা ও সহিংসতার উদ্বেগও রয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা রয়েছে। বিরোধীদের ওপর দমন পীড়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ’নিয়ে ভারতের ওপরেও যথেষ্ট চাপ রয়েছে কারণ শেখ হাসিনা সরকারকে ভারতের সবচেয়ে কাছের এবং একমাত্র নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ভারত ঐতিহ্যগতভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ‘বড় শক্তি’ হিসেবে স্বীকৃত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থান আরও শক্ত করেছে দেশটি। এবং এই অঞ্চলে ভারতকে চ্যালেঞ্জ করার মতো শুধু চীন রয়েছে। সম্প্রতি জো বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারায় বাধা সৃষ্টিকারীদের রুখতে এবং সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নিশ্চিত করতে একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিষয়ে মার্কিন ভিসা নীতি অন্যতম। যারা সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা প্রয়োগ করবে তাদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বাংলাদেশের কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়েছিলো আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাব।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারসাজি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। যা তাকে একের পর এক বিজয়ের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী নেতা বানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিগত বছরগুলোয় তার দ্বারা আয়োজিত গণতন্ত্রের শীর্ষ সম্মেলনগুলো থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েছেন। যদিও তিনি অন্যান্য দেশের সাথে পাকিস্তান ও ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা যখন মে মাসে বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে ওয়াশিংটনে যান তখন বাইডেন প্রশাসন তাকে উপেক্ষা করেছিলো। শেখ হাসিনার মতে, বাইডেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছেন। একবার সংসদে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমেরিকা বিশ্বের যে কোনও সরকারকে ছুঁড়ে ফেলতে পারে বিশেষ করে যদি সেটা মুসলিম জাতি হয়’।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চাপে শেখ হাসিনার রাজনীতি
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রধানমন্ত্রী হাসিনার রাজনৈতিক সুবিধার ওপর চাপ প্রয়োগ করলেও দেশের বিরোধীদের অবস্থান চাঙ্গা করেছে। সম্প্রতি প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে সভা সমাবেশ করছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের দোসর জামায়াতে ইসলামীকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বেশ উৎসাহিত লক্ষ করা গেছে। কারণ শেখ হাসিনার শাসনামলে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে তাদের নির্বাচনের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে আগেই। তবে সম্প্রতি জামায়াত নেতারা ঢাকায় একটি সমাবেশের আয়োজন করে। যা বিগত দশ বছরে সংঘটিত হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগের পতন হবেই’। প্রকৃতপক্ষে, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনের সমর্থনে বিএনপি যদি বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে তাহলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বাংলাদেশ
প্রায় এক দশক ধরে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শেখ হাসিনা আস্থার একটি দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। যার ফলে দুই দেশই উপকৃত। বিজেপি নেতাদের মুসলিম-বিদ্বেষী উপহাস উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ভারতের সাথে গভীর সম্পর্ক ধরে রেখেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টির নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে ভারত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু কয়েক দশক ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সেই উজ্জ্বলতার অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে। কারণ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসা সরকারগুলো ভারত বিদ্বেষীতা উস্কে দিয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে সেই বিদ্বেষের নিরসন করেন। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে দিল্লির।

শেখ হাসিনার অধীনে অর্থনৈতিক যত পরিবর্তন
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছেন যা সর্বজন স্বীকৃত। ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ গত এক দশকে বার্ষিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হারে রেকর্ড করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় যা যথেষ্ট ভালো। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ বিগত ৫০ বছরে প্রচুর অগ্রগতি করেছে। এটি এখন দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি। ২০২২ সালে, মহামারী এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের পর খাদ্য, জ্বালানী এবং সার সরবরাহে বাধার কারণে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় আইএমএফ থেকে ৪.৭ বিলিয়ন ঋণ চেয়েছিল বাংলাদেশ যেটা তারা পেয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ভারত মহাসাগরের নিয়ন্ত্রণের জন্য নেতৃস্থানীয় শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান ক্ষমতার লড়াইয়ে শেখ হাসিনা কারও পক্ষ নিতে অস্বীকার করেছেন। কারণ বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরের অংশ বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। যেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট জোন যেখান থেকে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের আনুমানিক ৮০ শতাংশ চলাচল করে। একইসাথে বাংলাদেশের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের সাথে সমান সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। যেটা বাংলাদেশের সাথে অন্যান্য দেশের সমতা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও চীনের যুদ্ধক্ষেত্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রত্যেকেই বাংলাদেশে তাদের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টায় লিপ্ত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) বিরাজমান উত্তেজনা তাদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজের উপস্থিতি জাহির করার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ নেয়ায় এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন-চীন বৈরিতার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরেও পরিলক্ষিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খান বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের যথেষ্ট বাণিজ্য স্বার্থ রয়েছে। কারণ আমেরিকা বাংলাদেশের পোশাকের বড় বাজারগুলোর মধ্যে একটি। মার্কিন ভিসানীতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। ‘

ঘনিষ্ঠ হচ্ছে চীন
বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েনে ঢাকার কাছে ভিড়ছে বেইজিং। জুনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন এক বিবৃতিতে বলেন: ‘আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। ‘ চীন আরও বলেছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশকে সমর্থন করে। কিন্তু চীনের সাথে বাংলাদেশের সখ্যতা চোখের কাটা হিসেবে দেখছে ভারত। ভারত আশঙ্কা করছে, শেখ হাসিনার পতন ঘটলে তথা বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে সাথে চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এদিকে চীনের বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তান বরাবরই ভারতের বিরোধী পক্ষ হিসেবে চিহ্নিত।

লন্ডনের এসওএএস ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার এবং দক্ষিণ এশীয় কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ অবিনাশ পালিওয়াল ফ্রন্টলাইনকে জানান, শেখ হাসিনা বিরোধীদের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং বিএনপি রাজনৈতিক গতি পাচ্ছে এটা ভারতের কাছেও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়, এই চ্যালেঞ্জ নয়াদিল্লির জন্য আরও চাপ সৃষ্টি করবে’। অনেক বিশেষজ্ঞর মতে, শেখ হাসিনার প্রতি মার্কিন বিরোধিতার আসল কারণ চীনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা এবং তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান। শাহাব এনাম খান জোর দিয়ে বলেন, চলমান বাংলাদেশ-মার্কিন বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে চীন। বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ২০১৩ সাল থেকেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরের পর থেকেই যা দৃশ্যমান। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এ যোগদানের পর থেকে বাংলাদেশ চীন থেকে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে।

চীনও বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার; চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে ২৫ বিলিয়ন ডলারের। সেই তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার এবং ভারতের সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রতিরক্ষা খাতে অংশীদারিত্ব। এটি ১৯৮০ এর দশকে শুরু হয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতে যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরবরাহের ৭২ শতাংশই চীনের। পাকিস্তানের পর চীনের অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য ঢাকা।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত উভয়ের জন্যই উদ্বেগের প্রধান কারণ। ভারতের পীড়াপীড়িতে শেখ হাসিনা চীনকে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। বছরের পর বছর ঝুলে থাকার পর প্রকল্পটি বাতিল করে দেন। তিনি এখন চট্টগ্রামের কাছে কক্সবাজারের কাছে মাতারবাড়িতে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য জাপানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা গত মার্চে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলের কাছে বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি পেকুয়া উদ্বোধন করেন। যা ১.২১ বিলিয়ন ব্যয়ে নির্মিত। ২০১৬ সালে চীনের কাছ থেকে দুটি রিফারবিশড সাবমেরিন কেনে বাংলাদেশ। ২০১০ সাল থেকে চীনের কাছ থেকে ঢাকা ২.৩৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছে। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ১২৩ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছে।

বাংলাদেশে আমেরিকার স্বার্থ
ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। সম্প্রতি ঢাকায় ফ্রিগেট এবং সামরিক পরিবহন বিমান সরবরাহ করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ সরকার দুটি (আকসা ও জিসমিয়া) মৌলিক চুক্তি স্বাক্ষর করুক যেগুলো সামরিক চুক্তির সাধারণ নিরাপত্তা এবং ক্রস সার্ভিসিং চুক্তি। যা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে। তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই চুক্তির বিষয়ে তাদের কোনো তাড়া নেই। পালিওয়ালের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদ বাংলাদেশকে চীনের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ করছে। যেটা বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। জুলাই মাসে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে উজরা জেয়া এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ঢাকার প্রশংসা করেন। তবে এসময় তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা নির্বাচনে হেরে গেলে বাংলাদেশকে আরও কয়েক বছর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য লড়াই করতে হবে। সেইসাথে দেশটিতে আবারও সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী শক্তির মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সুতরাং আওয়ামী লীগের বিদায় শুধুমাত্র ভারতের জন্য নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

লেখা -প্রণয় শর্মা
সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও বিদেশী উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে