ভারতের শহুরে এলাকায় মুসলমান সম্প্রদায় ও বিশেষ জনগোষ্ঠী যে বৈষম্যের শিকার হন তা যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদের বৈষম্যের মতোই। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বর্ণবাদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গরা যেভাবে আলাদা হয়ে থাকছেন, ভারতেও এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এমনকি সরকারি পরিষেবাতেও জাতিগত বৈষম্য বাড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিক্ষা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্কল ডট ইনের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।

আবাসিক পৃথকীকরণ এবং ভারতে স্থানীয় জনসেবায় অসমতা: ১৫ লাখ জনগোষ্ঠীর তথ্য থেকে’ শীর্ষক গবেষণায় ১৫ লাখ শহুরে ও গ্রামের বাসিন্দাদের তথ্য নেওয়া হয়। ২০১১ ও ২০১৩ সালে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে এসব তথ্য এখনো কোনো সরকারি বা কোনো বেসরকারি সংস্থা যাচাই করেনি। এ’গবেষণায় যুক্ত ছিলেন লন্ডনের ইমপিরিয়াল কলেজের স্যাম অ্যাশার, ডেভেলপমেন্ট ডেটা ল্যাবের কৃতার্থ ঝা, ডার্টমাউথ কলেজের পল নোভোসাড, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অঞ্জলি আদুকিয়া এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্র্যান্ডন ট্যাঙ্ক।

গবেষণা বলছে, শহুরে এলাকায় মুসলমান ও তফসিলি জাতিগোষ্ঠির বাসিন্দারা আলাদা হয়ে থাকছেন। আবাসিক পৃথকীকরণ গ্রামের চেয়ে শহরে বেশি। আর এতে করে তারা বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ভারতে এ ধরণের বৈষম্য নিয়ে অনেকদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি এ আলোচনায় যুক্ত হয়েছে নতুন একটি ইস্যু, সংখ্যালঘুদের আবাসিক পৃথকীকরণ। তাদের মতো করে সমাজে তারা থাকতে পারছেন না। পৃথক করে রাখা হচ্ছে, যেমনটি হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে ভারতে শুধু জাতিগতভাবে এই পৃথকীকরণ করা হচ্ছে, এমনটি নয়। ধর্মও এখানে প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণা বলছে, ভারতে মুসলমান ও তফসিলি জনগোষ্ঠীর মানুষ সেসব এলাকায় বাস করেন, যেখানে তাদের নিজেদের জাতির প্রভাব বেশি। ৮০ শতাংশের বেশি মুসলমান রয়েছেন এমন শহুরে এলাকায় বাস করেন ২৬ শতাংশ মুসলমান। তফসিলি জাতির ক্ষেত্রে এটি ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ মুসলমানরা আবাসিক পৃথকীকরণের শিকার হচ্ছেন বেশি। সরকারের পরিষেবার ক্ষেত্রে এসব এলাকা বেশি বঞ্চিত হচ্ছে। এসব পরিষেবার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও পানিসেবা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে