
কোরবানির ঈদে চামড়া সংরক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন লালবাগের পোস্তার প্রায় ১১০টি আড়ৎ। এরই মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী লবণসহ অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যও সংগ্রহ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে, ব্যবসায়ীদের দাবি, গতবছরের তুলনায় এবার প্রতি বস্তা লবনের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০০ টাকা। যা ১৪’শ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
এছাড়া এবার লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর প্রতি বর্গফুটে ৫ থেকে ৭ টাকা বাড়ানো হলেও খরচ বেড়ে যাওয়ায় সন্তুষ্ট নন ব্যবসায়ীরা। এতে, খরচ বাড়ায় মুনাফা কম হওয়ার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। তারপরও এবার ১ কোটি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন তারা। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে লবণের দাম বাড়ানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ’বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলছেন, ‘বরাবরের মতোই আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো রয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। আমরা আশা করছি এক কোটির কাছাকাছি চামড়া সংগ্রহ করতে পারব। প্রতি বর্গফুটে তিন টাকা বৃদ্ধিতে চামড়া সংগ্রহে কোনো সমস্যা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে দাম নির্ধারিত হয়েছে তাতে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো বাধা তৈরি হবে না। আশা করছি সুন্দরভাবেই চামড়া সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে কোরবানির চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং কোরবানিতে গবাদি পশুর চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায়ীরা চলতি বছর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ৯০ লাখ থেকে এক কোটি। তবে লবণের দাম বৃদ্ধিসহ কৃত্রিম সংকট যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর কোরবানিযোগ্য মোট গবাদি পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি, যা গত বছরের চেয়ে ৪ লাখ ১১ হাজার ৯৪৪টি বেশি। এর মধ্যে ৪৮ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫২টি গরু-মহিষ। ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ছাগল-ভেড়া। আর ২ হাজার ৫৮১টি অন্যান্য প্রজাতির গবাদি পশু।
কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ লাখ ৫৩ হাজার ১২৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৪টি, খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ১১ হাজার ৭০৮টি, বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ২০৬টি, সিলেট বিভাগে ৪ লাখ ১০ হাজার ২২৫টি, রংপুর বিভাগে ১৯ লাখ ৬২ হাজার ৯৫১টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭টি কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু রয়েছে। এ বছর কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৯টি।
কোরবানিকৃত পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গত বছরের চেয়ে ৩ টাকা বাড়িয়ে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত বছর এই দাম ছিল ৪৭ থেকে ৫২ টাকা। ঢাকার বাইরে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৪ টাকা।
ঢাকায় প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে বকরি ও খাসির চামড়ার দাম একই রেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে, প্রতিবছর অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কোরবানির চামড়া নষ্ট হয়। এবার লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।





















